পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

অষ্টম পরিচ্ছেদ—সুন্দরবনে মনুষ্যাবাস। ሳ¢ নাই, আছে কেবল তাহার ৬৭টি সুন্দর প্রস্তরস্তম্ভ। উহা দেখিবার জিনিস, খুলনা জেলার একটি পরম গৌরবের জিনিস কিন্তু সে স্তম্ভসমূহ কোন যুগে কোথা হইতে কে আনিয়াছিল, তাহ জানিবার উপায় নাই। বেদকাশীর পূৰ্ব্বদক্ষিণ কোণে যেখানে শিবসা নদীর দ্বিধাবিভক্ত প্রবাহদ্বয় একত্র মিলিত হইয়া মর্জাল নাম ধারণপূর্বক সমুদ্রমুখী হইয়াছে, সেই ত্রিমোহানার পূৰ্ব্বধারে প্রায় আধ মাইল পরিমিত স্থানে শিবসা নদীর কুল দিয়া খাতের মধ্যে অসংখ্য ইষ্টক দেখিতে পাওয়া যায়। হয়ত কোন নদীকূলবৰ্ত্তী প্রাচীন অট্টালিকা ভাঙ্গিয়া পড়িয়া স্রোতোবেগে ইষ্টকরাশি বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িয়াছে, অথবা তীর হইতে দূরে এককালে যে সমস্ত বসতিস্থান ছিল, তথাকার ভগ্ন অট্টালিকাসমূহের ইট কেহ নৌকায় বোঝাই করিয়া লইয়া যাইবার সময় নদীতীরে ইট ফেলিয়া গিয়াছে। সে ইটগুলি খুব ভাল ; বহুদিন ধরিয়া লোণ জল বা বাতাসে তাহার ধ্বংস সাধন করিতে পারে নাই। বাস্তবিকই এইস্থানে উপরে বহুদূর ধরিয়া নানা বসতি চিহ্ন আছে। তন্মধ্যে একটি বাড়ী বেশ জাঁকজমকশালী ছিল বলিয়া বোধ হয়। উহাকে কাঠুরিয়াগণ “কামার বাড়ী” বলে, কারণ কোনকালে নাকি সেখানে কামারদিগের লোহা পিটান একটি নোহাই’ পাওয়া গিয়াছিল। কিন্তু ইহা প্রবাদ মাত্র ; দ্বিতল একটি বাড়ীর ভগ্নাবশেষ দেখিলে তাহা কোন বিশেষ প্রতিপত্তিশালী ধনীর বাড়ী বলিয়া মনে হয়। একটি বিস্তৃত দ্বিতল গৃহের অত্যুচ্চ ইষ্টকস্তুপের সহিত সংলগ্নভাবে স্থানে স্থানে মৃত্তিকার টিপি ও অন্ত ইষ্টকৰ্তৃপ বাটার অন্তান্ত গৃহাদির পরিচয় দেয়। এই সকল স্তুপ এক্ষণে প্রকাণ্ড বিষধর সর্পগণের আবাসস্থান হইয়াছে। বাড়ীর পাশ্বেই একটি পোস্তবাধা পুকুর ; উহারও চতুঃপার্শ্ব এক সময়ে ইষ্টকপ্রাচীরে বেষ্টিত ছিল। . এখনও স্থানে স্থানে সে প্রাচীরের অংশবিশেষ দণ্ডায়মান আছে। বিস্তৃত বাড়ীর এক ধারে নদী ও তিন ধারে গড়খাই ছিল ; ঐ গড়খাই একদিকে পুকুরে আসিয়া মিশিয়াছে বলিয়া, নদীর মৎস্ত আসিয়া পুকুরে রাশীকৃত হইয়াছে। . এইস্থান ত্যাগ করিয়া দক্ষিণপশ্চিম মুখে একটু অগ্রসর হইলেই বামে সেখের খাল। উহার কুলে গোল গাছ খুব ভাল হয় ; তজ্জন্ত বহু নৌকা গোল কাটতে এই খালের মধ্যে আসে। মর্জাল নদী হইতে একটি খাল পূৰ্ব্বমুখে জঙ্গলে প্রবেশ করিয়াছে, উহার নাম কালীর খাল। এই সেখের খাল ও কালীর;