পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

૪૨ যশোহর-খুলনার ইতিহাস । যেখানে রাজপাট, প্রাচীন সঙ্গর বা সভ্যতার স্থান ছিল, হঠাৎ কোন দৈব দুর্যোগ বা মহামারী উপস্থিত হইয়া, প্রায়ই ভীষণ জঙ্গলে আবৃত হইয়াছে এবং বাস্ত্র ও বন্তপূকরের বাসভূমি হইয়াছে, আর দক্ষিণভাগে যেখানে জঙ্গল ছিল, মানুষ গিয়া সেখানে বন কাটিয়া, আবাদ করিয়া, বাসাবাটী প্রস্তুত করিতেছে। নদীগুলিও গতি পরিবর্তন করিয়া এইরূপ নূতন নূতন স্থানকে প্রতিপত্তি দান করিতেছে। মহম্মদপুর, সেখহাট, বেনাপোল, অভয়নগর, পয়গ্রাম কসবা বা হাবেলী-বাগেরহাট প্রভৃতি প্রাচীন স্থানের বর্তমান অবস্থা দেখিলে ভীত ও বিস্মিত হইতে হয়, আবার নড়াইল, কালিয়া, খুলন, সেনহাটি, বনগ্রাম, মোরেলগঞ্জ প্রভৃতি স্থানের উন্নত অবস্থা দেখিলে আনন্দের উদয় হয়। গঙ্গার সমস্ত উপদ্বীপ বিভাগই নদী-মাতৃক দেশ। বিশেষতঃ যশোহর ও খুলনা। এ অঞ্চলে নদীই সব। নদীই দেশকে বাসোপযোগী করিয়া সভ্যতা আনিয়াছে, বাণিজ্য বিস্তার করিয়া মনুষ্ঠাবাসকে সমৃদ্ধ করিয়াছে, উদ্যান ও শক্তক্ষেত্রের হরিৎ ছটায় সমৃদ্ধ পল্লীর সৌন্দৰ্য্য বৃদ্ধি করিয়াছে। দেহে যেমন শিরা ও ধমনী, এ দেশে তেমন নদনদী। শিরা বিকল হইলে যেমন দেহযন্ত্র অচল হয়, নদীর গতি রুদ্ধ বা পরিবর্তিত হইলেও দেশে নানা বিকৃতি উপস্থিত হয়। তবে প্রভেদ এই দেহের শিরা সহজে বিকল হয় না ; কিন্তু এদেশের নদনদী অবিরত পরিবর্তনশীল। যে কোন নদী পর্যবেক্ষণ করিলে ইহা বুঝা যায়। নদী যেখানে স্থান বা গতি পরিবর্তন করিয়াছে, তাহার চিহ্ন সেখানে নানাভাবে বর্তমান আছে। খাতের পর খাত, এমন ভাবে ক্রমান্বয়ে ৬৭টি পাতও কোন স্থানে দৃষ্ট হইবে। আজ নদী একস্থানে বহিতেছে, লোকেরা উভয় কুলে বসতি করিয়াছে; আবার নাসরি গেল, খাত রহিয়া গেল কিন্তু বসতি গেল ন ; নূতন স্থানে নদীর কুলে আর এক সারি বসতি হইল। এইরূপে একসারি বসতি, তৎপরে একটি থাত, তাহাতে বর্ষাকালে জল হয়, বর্ষস্তে ধান্ত হয়; সে খাতের পর পুনরায় বসতি পুনরায় খাত। পাড়ায় পাড়ায় এইরূপ খাত সকল উচ্চ নীচ জমিতে পরিণত হইব রহিয়াছে। যমুন, ভৈরব, কপোতাক্ষ ও নবগঙ্গা এমন যে কত গতি পরি বর্তন করিয়াছে, তাহার ইয়ত্তা নাই। ইহার জন্ত ঐতিহাসিককে মহাত্রমে পতিত হইতে হয়। যেখানে একদিন যোজন-বিস্তৃত নদী-প্রবাহ পণৱানকার লগ পরিয়া দেশকে ঐশ্বৰ্য্য-মণ্ডিত কদিছিল,আৰু হয়ত সেখানে এক ক্ষীণ বন্ধ