পাতা:যশোহর-খুল্‌নার ইতিহাস প্রথম খণ্ড.djvu/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

বাহ্যিক প্রকৃতি ও বিভাগ । ১৩ হলের খাল মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ করিয়া, অতীতের স্মৃতি মুছিয়া ফেলিয়া সে দেশের লোককে কুপমণ্ডুক করিয়া রাখিয়াছে। যেখানে দুই তিনটি সমৃদ্ধ qgগ্রাম পাশাপাশি থাকিয়া কোন রাজা বা শক্তিশালী পুরুষের প্রাচীন আবাসের মমিস্থিত হইয়াছিল, আজ এক বিপুল নদী-স্রোত উহাদের মধ্য দিয়া প্রবাহিত হইয়া, সে সকল গ্রামকে এমনভাবে পৃথক করিয়া দিয়াছে যে, তথাকার কোন পূর্ব তত্ত্ব স্থির করিবার উপায় নাই। অনেক স্থানের প্রাচীন কাহিনী উদঘাটন করিতে গিয়া এইরূপ অবস্থা আলোচনা করিতে হইবে। নদীসমূহ আপনার যেমন কালের গতিতে বাক ফিরিয়৷ নানা পরিবর্তন আনিয়াছে, মানুষের কৃত্রিম হস্তক্ষেপও তেমনি অনেক স্থানে অচিন্তিতপূৰ্ব্ব পরিবর্তন সংসাধিত করিয়াছে। অনেকস্থলে এবিষয়ে মানুষের বুদ্ধির অপরিপক্কতা পরীক্ষিত হইয়াছে। হয়ত একস্থানে কেহ দেখিলেন, একটি নদী অনেকদূর ঘুরিয়া আসিয়াছে, কিন্তু কোনস্থানে তাহার দুই অংশ এমন নিকটবৰ্ত্তী হইম্বা পড়িয়াছে, যে ঐ স্থানে সামান্ত দূর পর্য্যন্ত একটা খাল কাটিয়া দিলে, মানুষের যাতায়াতের পথ সুগম ও সংক্ষিপ্ত হয়। অমনি রাজা বা জমিদার তাহাই করিলেন। কিন্তু অল্পদিন মধ্যে এক বিস্তৃত অঞ্চল যেন নদীশূন্ত হইয়া পড়িল, অথবা বিপরীত দিক্ হইতে স্রোত আসিয়া প্রকৃত নদীকে অচিরে ভরাট করিয়া দিয়া দেশের এক বিষম অনর্থ সাধন করিল। বাগের হাটের নিকটে খাল কাটিয়া এইরূপে ভৈরবের দুর্দশা হইয়াছে। দক্ষিণভাগে কোন কোন স্থানে এইরূপে খাল কাটিয়া পথ সোজা করিতে গিয়া দেশে লোণাজল প্রবেশ করিবার পথ করিয়া দেওয়া হইয়াছে, তাহাতে শস্ত ও পানীয়ের ক্ষতি হওয়াতে, “খাল কটিয়া লোণাজল চুকান” কথাটা দেশের লোকের একটা অব্যক্ত অমুতাপকে ভাষান্তরিত করিয়াছে। গঙ্গোপদ্বীপে নদ নদীর কার্য্য দুইটি ; প্রথমতঃ জলনিঃসরণ ও দ্বিতীয়তঃ জমির উচ্চতা এবং উর্বরতা বৃদ্ধি করা। বিপরীত জলস্রোতে নদীর বেগ প্রথ হইলে, স্থির জলে পলি পড়িয়া ভূমি নিৰ্ম্মাণ কাৰ্য্যটা অত্যন্ত সত্বরতার সহিত সম্পন্ন করে। অনেক নদী এইভাবে পার্শ্ববর্তী স্থানের জমির উচ্চতা ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি করিতে করিতে আপনার খাতই পলি সঞ্চয় দ্বারা এত উচ্চ করিয়া ফেলে, যে সবশেষে নদীকে নিজের আনীত পলির বোঝায় নিজেই মজিয়া গিয়া আত্মঘাতী