পাতা:রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃতীয় পরিচ্ছেদ । সেই অবধি, আমি প্রায় প্রত্যহ রামসদয় মিত্রের বাড়ী ফুল বেচিতে যাইতাম। কিন্তু কেন তাহ জানি না । যাহার ময়ন নাই, তাছার এ যত্ন কেন ? সে দেখিতে পাইবে না— কেবল কথার শব্দ শুনিবার তরস মাত্র। কেন শচীন্দ্র বাৰু আমার কাছে আসিয়া কথা কহিবেন ? তিনি থাকেন সদরে— আমি যাই অন্তঃপুরে। যদি তাহার স্ত্রী থাকিত, তবে ও বা কখন আসিতেন। কিন্তু বৎসরেক পূৰ্ব্বে তাছার স্ত্রীর মৃত্যু হইয়াছিল—আর বিবাহ করেন নাই। অতএব সে ভরসাও মাই। কদাচিৎ কোন প্রয়োজনে মাতাদিগের নিকটে আসি তেন। আমি যে সময়ে ফুল লইয়া যাইব, তিনিও ঠিক সেই সমরে আসিবেন, তাহারই বা সম্ভাবনা কি ? অতএব মে এক শব্দ শুনিরার মাত্র আশা, তাহা ও বড় সফল হষ্টত না । তথাপি অন্ধ গ্রত্যই ফুল লইয়। যাইত। কোন দুরাশায়, তাছা জানি না। নিরাশ হইয়া ফিরিয়া আসিবার সময় প্রত্যহ ভাবিতাম, আমি কেন আসি ? প্রস্তাহ মনে করিতাম, আর আসিব না। প্রত্যহই সে কল্পনা বুথ হইত। প্রত্যহই আবাব যাইতাদ। যেন কে চুল ধরিয়া লইয়া যাইত। আবার নিবাশ হইয়। ফিরিয়া আসিতাম, আবার প্রতিজ্ঞ করিতাম যাইব না—আবার যাইতাম । এইরূপে দিন কাটিতে লাগিল । মনে মনে আলোচনা করিতাম, কেন যাই ? শুনিয়াছি, স্ত্রীজাতি পুরুষের রূপে মুগ্ধ হইয়া ভালবাসে। আমি কাণ, কাছার রূপ দেখিয়াছি ? তবে কেন যাই ? কথা শুনিব বলিয়? কগন কেহ শুনিয়াছে বে কোন রমণী শুধু কথা শুনিয়া উন্মাদিনী হুইয়াছে ? আমিই কি তাই হইয়াছ ? তাও কি সম্ভব ?