৵৹
এখানে ফাল্গুন চৈত্র মাসে দোলোৎসব হইয়া থাকে, তখন সেইরূপ মদনোৎসব হইত। এবং এখনকার মত তখনও সেই সময়ে “আবীরখেলা” হইত। প্রভেদ এই, শ্রীকৃষ্ণের পূজা না হইয়া তখন মদনদেবের পূজা হইত। কোন্ সময় হইতে এদেশে মদনোৎসব রহিত হইয়া শ্রীকৃষ্ণের দোলোৎসব আরম্ভ হয়, ইহা একটি ঐতিহাসিক রহস্য।
এই নাটিকার পাত্রগণের মধ্যে বৎস রাজ ও দেবী বাসবদত্তার চরিত্র অতি পরিস্ফুট ভাবে চিত্রিত হইয়াছে। একদিকে রাজা বিলাস-পরায়ণ, লঘুচিত্ত ও অন্যাসক্ত; পক্ষান্তরে, রাণী একনিষ্ঠা ব্রতপরায়ণা ও পতিরতা। সর্ব্বাপেক্ষা দেবী বাসবদত্তার চিত্র অতি উৎকৃষ্ট বর্ণে চিত্রিত হইয়াছে। তাঁহার চরিত্রে বিরুদ্ধ গুণের সমাবেশ অতি নিপুণ ভাবে সম্পাদিত হইয়াছে। একদিকে যেমন তিনি তেজস্বিনী, অভিমানিনী, উদ্ধ্বতা; পক্ষান্তরে তেমনি আবার কোমল হৃদয়া, সুবৎসলা ও উদারভাবাপন্না। বিদূষক বসন্তকের চরিত্রেরও একটু বিশেষত্ব আছে—উহার “ভাড়ামি”র মধ্যেও একটু সহৃদয়তা প্রকাশ পায়। এই নাটিকাটি কবিত্ব-অংশে উচ্চদরের না হইলেও, নাট্যাংশে যে ইহা উৎকৃষ্ট তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। ইহার নাটকীয় সংস্থান-গুলি ও ঘটনার পাক-চক্র কতকটা আধুনিক নাটকের ন্যায়—সেইজন্য, এখনকার রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হইবার পক্ষে সম্পূর্ণরূপে উপযোগী। ইহার ঘটনা-গুলি ঘোরো রকমের এবং ইহার পরিণতি-সাধনে কোন অলৌকিক শক্তির আশ্রয় গ্রহণ করা হয় নাই। পাত্রগণও সকলেই সাধারণ মনুষ্যের রক্ত-মাংসে গঠিত। আশ্চর্য ঘটনার মধ্যে, কোন সন্ন্যাসী-দত্ত ঔষধীর দ্বারা নবমল্লিকা অকালে প্রস্ফুটিত করা হয়, এবং একজন