পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমালোচনা brQ কবি । তুমি বল দেখি, ওটাহিটি দ্বীপবাসী বা এস্কুইমোদের ভাষায় কয়টা পাঠ্য কবিতা আছে ? এমন কোন জাতির মধ্যে ভাল কবিতা আছে, যে জাতি সভ্য হয় নাই । যখন রামায়ণ মহাভারত রচিত হইয়াছিল, তখন প্রাচীন কাল বটে, কিন্তু অশিক্ষিত কাল কি ? রামায়ণ মহাভারত পাঠ করিয়া কাহারো মনে কি সে সন্দেহ উপস্থিত হইতে পারে ? উনবিংশ শতাব্দীতে যে মহা মহা কবিরা ইংলণ্ডে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, তাহাদের কবিতায় কি উনবিংশ শতাব্দীর প্রভাব লক্ষিত হয় না ? Copleston &R “Never has there been a city of which its people might be more justly proud, whether they looked to its past or its future than Athens in the days of Æschylus.” অনেকে কল্পনা করেন যে, অশিক্ষিত অবস্থায় কবিত্বের বিশেষ ফুৰ্ত্তি হয় ; তাহার একটি কারণ এই যে, তাহাদের মতে একটি বস্তুর যথার্থ স্বরূপ না জানিলে তাহাতে কল্পনার বিচরণের সহস্ৰ পথ থাকে । সত্য একটিমাত্র, মিথ্যা অগণ্য । অতএব মিথ্যায় কল্পনার যেরূপ উদরপূৰ্ত্তি হয়, সত্যে সেরূপ হয় না। পৃথিবীতে অখাদ্য যত আছে, তাহা অপেক্ষ খাদ্য বস্তু অত্যন্ত পরিমিত । একটি খাদ্য যদি থাকে ত সহস্ৰ অখাদ্য আছে। অতএব এমন মত কি কোন পণ্ডিতের মুখে শুনিয়াছ যে, অখাদ্য বস্তু আহার না করিলে মনুষ্য-বংশ ধ্বংস হইবার কথা ? প্রকৃত কথা এই যে, সত্যে যত কবিতা আছে, মিথ্যায় তেমন নাই। শত সহস্ৰ মিথ্যার দ্বারে দ্বারে কল্পনা বিচরণ করিতে পারে, কিন্তু এক মুষ্টি কবিতা সঞ্চয় করিতে পারে কি না সন্দেহ ; কিন্তু একটি সত্যের কাছে যাও, তাহার দশগুণ অধিক কবিতা পাও কি না দেখ দেখি ? কেনই বা তাহার ব্যতিক্রম হইবে বল ? আমরা ত প্রকৃতির কাছেই কবিতা শিক্ষা করিয়াছি, প্রকৃতি কখনো মিথ্যা কহেন না। আমরা কি কখনো কল্পনা করিতে পারি যে, লোহিত-বর্ণ ঘাসে আমাদের চক্ষু জুড়াইয়া যাইতেছে ? বল দেখি, পৃথিবী নিশ্চল রহিয়াছে ও আকাশে অগণ্য তারকারাজি নিশ্চলভাবে খচিত রহিয়াছে, ইহাতে অধিক কবিত্ব, কি সমস্ত তারকা নিজের পরিবার লইয়া ভ্রমণ করিতেছে, তাহাতে অধিক কবিত্ব ; এমনি তাহাদের তালে তালে পদক্ষেপ যে, একজন জ্যোতির্বিদ বলিয়া দিতে পারেন, কাল যে গ্রহ অমুক স্থানে ছিল আজ সে কোথায় আসিবে। প্রথম কথা এই যে, আমাদের কল্পনা প্রকৃতি অপেক্ষ কবিত্বপূর্ণ বস্তু স্বজন করিতে অসমর্থ ; দ্বিতীয় কথা এই যে, আমরা যে অবস্থার মধ্যে জন্মগ্রহণ করিয়াছি তাহার বহিভূত সৌন্দৰ্য্য অনুভব করিতে পারি না। অনেক মিথ্যা, কবিতায় আমাদের মিষ্ট লাগে । তাহার কারণ এই যে, যখন