পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У o a ... " রবীন্দ্র-রচনাবলী ...And last in kindly curves, with gentlest fall, By quiet fields, a slowly-dying power, To that last deep where we and thou are still. এখন আর সে নিতান্তই তাহাদের নহে। এখন তাহার নিজত্ব বিকশিত হইয়াছে। এখন তাহার নিজের কাজ আছে। কবি তাহার মর্ত্য জীবনের তিনটি অবস্থা সমালোচনা করিয়াছেন । প্রথমে মর্ত্য জীবনের আদি কারণ আলোচনা করিলেন, পরে তাহার জন্ম অর্থাৎ মনুষ্য শরীর ধারণ আলোচনা করিলেন ও পরে তাহার পার্থিব জীবন আলোচনা করিলেন । এইখানেই সমস্ত ফুরাইল। প্রথম সম্ভাষণ শেষ হইল । এই সম্ভাষণে কবি একটি মর্ত্যের মনুষ্যকে সম্ভাষণ করিয়াছেন। যতক্ষণ সে মনুষ্য, ততক্ষণ সে র্তাহার। র্তাহাকে সমর্পণ করিবার জন্যই অতীত ইহাকে গড়িয়াছে। গঠিত অবস্থায় দেখিলেন সে র্তাহারই মত। ইহাতে কেবল শরীর ও জীবনের কথাই আছে। “তুমি বাচিয়া থাক, তুমি কাজ কর, তোমার জীবন পূর্ণতা প্রাপ্ত হউক, ও অবশেষে যথাসময়ে অতি ধীর-ক্রমে তাহার অবসান হউক ৷” ইহাই কবির সমস্ত সম্ভাষণের মৰ্ম্ম । কবি র্তাহার সন্তানের মর্ত্য অংশকে সম্ভাষণ করিতেছেন, সুতরাং উপরি-উক্ত আশীৰ্ব্বচন মর্ত্য জীবনের প্রতি সৰ্ব্বতোভাবে প্রয়োগ করা যাইতে পারে। যাহা হউক, এইখানেই সমস্ত শেষ হইয়া যায়, জীবন আরম্ভ হইল জীবন শেষও হইল । তখন জীবনের সমাধি-স্তম্ভের উপর কবি দাড়াইয়া দূর দূরান্তরে দৃষ্টি চালনা করিলেন, দেখিলেন, জীবন শেষ হইল, র্তাহার সস্তান শেষ হইল, কিন্তু যে সূত্র বাহিয়া এই সস্তান আসিয়াছে, সেই সুত্রের শেষ হইল না । তিনি এখন দেখিলেন, অনন্ত পথের একজন পথিক, পথের মধ্যে অবস্থিত তাহার গৃহে, পৃথিবীতলে অতিথি হইয়াছে। এই আতিথ্য-জীবনকে সস্তান বলে, মচুন্য বলে। আতিথ্য-জীবন ফুরায়, সস্তানও ফুরায়, মচুন্যও ফুরায় কিন্তু পথিক ফুরায় না । প্রথমে তিনি সেই অতিথিকে সম্ভাষণ করিলেন, এখন সেই মহা-পান্থকে সম্ভাষণ করিতেছেন। এখন পৃথিবীর অতিথিকে নহে, মহাকালের অতিথিকে সম্ভাষণ করিলেন । এখন তিনি দেখিতেছেন যে, এই পথিক সৌর জগতেরও জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। প্রথম সম্ভাষণে তিনি কোটি কোটি যুগ ও আবৰ্ত্তমান আলোকের নিৰ্ম্মাণ-শালার উল্লেখ করিয়াছেন, অপরিবর্তনীয় পরিবর্তনের জগতে ক্রমোখানশীল জীবনের উল্লেখ করিয়াছেন—এবং কহিয়াছেন— With this last moon, this crescent—her dark orb Touch'd with earth's light—thou comest,” অর্থাৎ মনুষের জন্মও এইরূপ চন্দ্রকলার ন্যায় ; তাহার একাংশ পৃথিবীর জীবন,