পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S&8 I রবীন্দ্র-রচনাবলী উপস্থিতক্ষেত্রে আমার এই প্রবন্ধে বিদীর্ণ প্লীহার উল্লেখ করা কালোচিত স্থানোচিত বিজ্ঞোচিত হয় নাই এইরূপ অনেকেরই ধারণা হইতে পারে। বিষয়টা সাধারণতঃ মনোরঞ্জক নহে, এবং ইহার উল্লেখ আমাদের কর্তৃপুরুষদের কর্ণে শিষ্টাচারবিরুদ্ধ বলিয়া আঘাত করিতে পারে । , f কিন্তু কথাটা পাড়িবার একটু তাৎপৰ্য্য আছে। ইংরাজের সাংঘাতিক সংঘর্ষে মাঝে মাঝে আমাদের দুৰ্ব্বল প্লীহা এবং অনাথ মানসন্ত্রম শতধা বিদীর্ণ হইয়া গিয়াছে এ কথাটা গোপন করিয়া রাখা সহজ হইতে পারে কিন্তু বিস্তৃত হওয়া সহজ নহে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ভারতবর্ষীয় ইংরাজের এই স্বাভাবিক রূঢ়তা আমরা যদি চন্ধের উপরে ও মৰ্ম্মের মধ্যে একাস্ত প্রাণাস্তিকরূপে অনুভব না করিতাম তবে ইংরাজ গবর্মেন্টের উদারতা ও উপকারিতা-সম্বন্ধে বিশ্বাস করা আমাদের পক্ষে কত সহজ হইত ! মহন্তের স্বভাব এই, অপরাধীর প্রতি রাগ করিয়া তাহার সম্পূর্ণ নিরপরাধী উৰ্দ্ধতন চতুর্দশ পুরুষের প্রতি কাল্পনিক কলঙ্ক আরোপ করিয়া কিয়ৎ-পরিমাণে সাত্বনা অনুভব করে । তেমনি আমরা অনেক সময়ে দলিত প্লীহাযন্ত্রের যন্ত্রণায় কোন বিশেষ ইংরাজ কাপুরুষের প্রতি রাগ করিয়া গবর্মেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা বিস্তৃত হই। কারণ গবমেণ্টকে আমরা প্রত্যক্ষ অনুভব করিতে পারি না, অনেকটা শিক্ষা ও কল্পনার সাহায্যে মনের মধ্যে খাড়া করিয়া লইতে হয় । কিন্তু যাহাতে করিয়া জিহবা এবং জীবাত্মার অধিকাংশই বহির্গত হইয় পড়ে অথবা অপমানশেল হৃৎপিণ্ডের শোণিত শোষণ করিতে থাকে তাহা অত্যন্ত নিকটে অনুভব না করিয়া থাকা যায় না । অতএব ভ্রমের কারণ মন হইতে দূর করিয়া সেই ব্যক্তিগত অপমানজাল বিশ্বত হইয়া আমরা যদি স্থিরচিত্তে প্রণিধান করিয়া দেখি তবে ইহা নিশ্চয় স্বীকার করিতে হইবে যে ইংরাজ গবর্মেন্টের নিকট হইতে আমরা এত বহুল সুফল লাভ করিয়াছি যে তাহার নিঃস্বার্থ উপকারিতা সম্বন্ধে অবিশ্বাস করা আমাদের পক্ষে কৃতঘ্নত মাত্র । অতএব সকলেই বলিবেন ভারতশাসনের মুখ্য উদ্দেশ্য ভারতবর্ষেরই উন্নতি । আমাদেরই সুবিধা, আমাদেরই কাজ। সেই আমাদের কাজের জন্য আমাদের লোকের সাহায্য প্রার্থনীয় হইয়াছে। সহজেই মনে হয় আমরা বাছিয়া দিলে কাজটাও ভাল হইবে, আমাদের মনেরও সন্তোষ হইবে । এই সন্তোষ পদার্থটি কিছু উপেক্ষার যোগ্য নহে। ইহাতে কাজ যেমন অগ্রসর করিয়া দেয় এমন আর কিছুতে নহে। রুচিপূর্বক আহার করিলে তবে পরিপাকের সহায়তা হয়। কাৰ্য্যসাধনের সঙ্গে সঙ্গে সন্তোষসাধনের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখা