পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


s१० ।। রবীন্দ্র-রচনাবলী রাশি রাশি পুথি জাহাজে করিয়া প্রতিনিয়ত আমাদের নিকট প্রেরণ করিতেছ, এত দিন মুখস্থ করিয়াও যদি দুটাে কথা কহিতে না শিখিলাম তবে আর কি শিখিলাম ! তোমাদের নিকট হইতে শিথিয়াছি কথাই তোমাদের উনবিংশ শতাব্দীর ব্রহ্মাস্ত্র । কামান বন্দুক ক্রমশঃ নীরব হইয়া আসিতেছে । অবশ্ব ভাল কথা এবং মন্দ কথা দুইই আছে । আমরা যে সব সময়ে মিষ্ট কথাই বলি তাহা নহে। কিন্তু তোমরাও যে বল তাহাও সত্যের অনুরোধে বলিতে পারি না । সকলেই স্বীকার করিবেন নিৰ্ব্বাপিত জঠরানলে সাৰ্ব্বভৌমিক প্রেম অত্যন্ত সহজ হইয়া আসে । তোমরা প্রভু, তোমরা কৰ্ত্তা, তোমরা বিজেতা, তোমরা স্বাধীন, আমাদের তুলনায় সৰ্ব্বতোভাবে সকল প্রকার স্থবিধাই তোমাদের আছে, তোমাদের পক্ষে সহিষ্ণু হওয়া উদার হওয়া ক্ষমাপরায়ণ হওয়া কত অনায়াসসাধ্য। আমাদের মনে স্বভাবতঃ অনেক সময়ে নৈরাশু উপস্থিত হয়, আমরা তোমাদের অপেক্ষা দুর্ভাগ্য, দরিদ্র এবং অসহায়, আমাদের স্বজাতীয়ের প্রতি তোমাদের বিজাতীয় ঘৃণা অথবা কৃপাদৃষ্টি অনেক সময়ে পরিস্ফুট আকারে প্রকাশ পায়, আমরা সে ঘৃণার যোগ্যপাত্ৰ হই বা না হই তাহার অপমানবিষ অনুভব না করিয়া থাকিতে পারি না ; অতএব আমরা যদি অসহিষ্ণু হইয়া কখনো অসংযত কথা বলিয়া ফেলি, অথবা ক্ষুব্ধ অভিমানকে সান্থন। করিবার আশায় মুখে তোমাদিগকে লঙ্ঘন করিবার ভান করি তাহাতে আশ্চৰ্য্য হইবার কারণ নাই। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে তোমাদের পরিপূর্ণ ঐশ্বর্ঘ্যের মধ্যে, ক্ষমতার মধ্যে, সৌভাগ্যস্থখের মধ্যে থাকিয়াও অসন্থত হইয়া তোমরা আমাদের প্রতি এমন রূঢ়ভাষা প্রয়োগ কর যাহাতে তোমাদের আন্তরিক দৈন্য প্রকাশ হইয়া পড়ে । তোমরা নিজের রসনাকে যখনি সংষত করিতে পার না তখনি আমাদিগকে বল বাক্যবাগীশ । আমাদের আবার এমনি দুর্ভাগ্য তোমাদের ভাষা লইয়াই তোমাদের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে হয় সুতরাং তাহাতেও হার মানিয়া আছি । আরো আশ্চর্য্যের বিষয় এই বাক্যকেই আমরা একমাত্র সম্বল করিতেছি বলিয়া তোমরা এত বিরক্ত হও কেন ? আমাদের মুসলমান ভ্রাতৃগণের মধ্যে একদল আছেন, র্তাহার কথা কহিতে চান না, যেটুকু কহেন তাহাতে এত অতিমাত্রায় রাজভক্তির আড়ম্বর যে তাহাতে তোমরাও ভোল না আমরাও ভুলি না ; তাহারা ইংরাজি শিক্ষার নিকটেও অধিক পরিমাণে ঋণী নহেন, ইংরাজের রাজত্ব আসিয়াও তাহদের গৌরব বা সুখ-সমৃদ্ধির বৃদ্ধি করে নাই—সামান্য অধিকার এবং সামান্য সম্মানকে র্তাহারা স্বভাবতই উপহাসযোগ্য মনে করেন ; তাহারা যেরূপ সাবধান চোরা মৌনভাব অবলম্বন করিতে চাহেন, তাহারা যেরূপ গবর্মেন্টের সকল কথাতেই অতিরিক্ত পরিমাণে স্কন্ধ আন্দোলন