পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অচলিত) দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


.ان t‘ \ 4 וי 2trix ' s *ѣ. o ικη f d

  • ጳ *

s i বিষ্ঠাঞ্চাবিদ্যাঞ্চ যন্তদ্বেদোভয়ং সহ অবিদ্যয়া মৃত্যুং তীত্ব বিষ্ঠয়ামৃতমশ্বতে । বিদ্যা এবং অবিদ্যা উভয়কে যিনি একত্র করিয়া জানেন তিনি অবিদ্যা অর্থাং কৰ্ম্ম দ্বারা মৃত্যু হইতে উত্তীর্ণ হইয়া ব্ৰহ্মলাভের দ্বারা অমৃত প্রাপ্ত হন। ইহাই সংসারধর্মের মূলমন্ত্ৰ—কৰ্ম্ম এবং ব্রহ্ম, জীবনে উভয়ের সামঞ্জস্য সাধন। কৰ্ম্মের দ্বারা আমরা ব্রহ্মের অভ্ৰভেদী মন্দির নির্মাণ করিতে থাকিব, ব্রহ্ম সেই মন্দির পরিপূর্ণ করিয়া বিরাজ করিতে থাকিবেন । নহিলে কিসের জন্য আমরা ইন্দ্রিয়গ্রাম পাইয়াছি, কেন এই পেশী, এই স্বায়ু, এই বাহুবল, এই বুদ্ধিবৃত্তি, কেন এই স্নেহপ্রেম দয়া, কেন এই বিচিত্র সংসার ? ইহার কি কোন অর্থ নাই ? ইহা কি সমস্তই অনর্থের হেতু ? ব্রহ্ম হইতে সংসারকে বিচ্ছিন্ন করিয়া জানিলেই তাহা অনর্থের নিদান হইয়৷ উঠে এবং সংসার হইতে ব্রহ্মকে দূরে রাখিয়া তাহাকে একাকী সম্ভোগ করিতে চেষ্টা করিলেই আমরা আধ্যাত্মিক স্বার্থপরতায় নিমগ্ন হইয়া জীবনের বিচিত্র সার্থকতা হইতে बछे श्झे । পিতা আমাদিগকে বিদ্যালয়ে পাঠাইয়াছেন, সেখানকার নিয়ম এবং কৰ্ত্তব্য সৰ্ব্বথা মুখজনক নহে। সেই দুঃখের হাত হইতে নিস্কৃতি পাইবার জন্য বালক পিতৃ-গৃহে পালাইয়া আনন্দলাভ করিতে চায়। সে বোঝে না বিদ্যালয়ে তাহার কি প্রয়োজন— সেখান হইতে পলায়নকেই সে মুক্তি বলিয়া জ্ঞান করে, কারণ পলায়নে আনন্দ আছে। মনোযোগের সহিত বিদ্যা সম্পন্ন করিয়া বিদ্যালয় হইতে মুক্তিলাভের যে আনন্দ তাহ সে জানে না । কিন্তু মুছাত্র প্রথমে পিতার স্নেহ সৰ্ব্বদা স্মরণ করিয়া বিদ্যাশিক্ষার দুঃখকে গণ্য করে না, পরে তাহার সহিত বিদ্যাশিক্ষায় অগ্রসর হইবার আনন্দও যুক্ত হয়—অবশেষে কৃতকাৰ্য্য হইয়া মুক্তিলাভের আনন্দে সে ধন্য হইয়া থাকে। যিনি আমাদিগকে সংসারে প্রেরণ করিয়াছেন সংসার-বিদ্যালয়কে অবিশ্বাস করিয়া র্তাহাকে যেন সন্দেহ না করি—এখানকার দুঃখকাঠিন্য বিনীতভাবে গ্রহণ করিয়া এখানকার কৰ্ত্তব্য একান্তচিত্তে পালন করিয়া পরিপূর্ণ জীবনের মধ্যে ব্রহ্মামৃত লাভের সার্থকতা যেন অমুভব করি । ঈশ্বরকে সৰ্ব্বত্র বিরাজমান জানিয়া সংসারের সমস্ত কৰ্ত্তব্য সম্পন্ন করিয়া যে মুক্তি তাহাই মুক্তি। সংসারকে অপমানপূর্বক পলায়নে যে মুক্তি তাহা মুক্তির বিড়ম্বনা—তাহা এক জাতীয় স্বার্থপরতা। সকল স্বার্থপরতার চূড়ান্ত এই আধ্যাত্মিক স্বার্থপরতা । কারণ সংসারের মধ্যে এমন একটি অপূৰ্ব্ব কৌশল আছে যে, স্বার্থ সাধন করিতে গেলেও পদে পদে স্বাৰ্থত্যাগ করিতে হয়। সংসারে পরের দিকে একেবারে না তাকাইলে নিজের কাৰ্য্যের ব্যাঘাত &