পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ঊনবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাত্রী 8brፃ বেদের নাম, যম বক্ষণ প্রভৃতি চার লোকপালের নাম, মহাদেবের নামাষ্টক বলে গেলেন ; ভেবে ভেবে মহাভারতের অষ্টাদশ পর্বের নাম বলতে লাগলেন, সবগুলি মনে এল না । রাজপুরীতে প্রবেশ করেই দেখি, প্রাঙ্গণে একটি বেদীর উপর বিচিত্র উপকরণ সাজানো ; এখানকার চারজন ব্রাহ্মণ— একজন বুদ্ধের, একজন শিবের, একজন ব্রহ্মার, একজন বিষ্ণুর পূজারি ; মাথায় মন্ত উচু কারুখচিত টুপি, টুপির উপরিভাগে কাচের তৈরি এক-একটা চূড়া। এরা চারজন পাশাপাশি বসে আপন-জাপন দেবতার স্তবমন্ত্র পড়ে যাচ্ছেন। একজন প্রাচীন এবং একজন বালিকা অর্ঘ্যের থলি হাতে করে দাড়িয়ে । সবস্থদ্ধ সাজসজ্জা খুব বিচিত্র ও সমারোহবিশিষ্ট । পরে শোনা গেল, এই মাঙ্গল্যমন্ত্রপাঠ চলছিল রাজবাড়িতে আমারই আগমন উপলক্ষে । রাজা বললেন, আমার আগমনের পুণ্যে প্রজাদের মঙ্গল হবে, ভূমি সফল হবে, এই কামনায় স্তবমন্ত্রের আবৃত্তি। রাজা বিষ্ণুবংশীয় বলে নিজের পরিচয় দিলেন। বেলা সাড়ে চারটের সময় স্নান করে নিয়ে বারান্দায় এসে বসলুম। কারো মুখে কথা নেই। ঘণ্টা-দুয়েক এই ভাবে যখন গেল তখন রাজা স্থানীয় বাজার থেকে বোম্বাই প্রদেশের এক খোজা মুসলমান দোকানদারকে তলব দিয়ে আনালেন। কী আমার প্রয়োজন কিরকম আহারাদির ব্যবস্থা আমার জন্তে করতে হবে ইত্যাদি প্রশ্ন । আমি রাজাকে জানাতে বললুম, তিনি যদি আমাকে ত্যাগ করে বিশ্রাম করতে যান তাহলেই আমি সব চেয়ে খুশি হব। তার পরদিনে রাজবাড়ির কয়েকজন ব্রাহ্মণপণ্ডিত তালপাতার পুথিপত্র নিয়ে উপস্থিত। একটি পুথি মহাভারতের ভীষ্মপর্ব। এইখানকার অক্ষরেই লেখা ; উপরের পংক্তি সংস্কৃত ভাষায়, নীচের পংক্তিতে দেশী ভাষায় তারই অর্থব্যাখ্যা । কাগজের একটি পুথিতে সংস্কৃত শ্লোক লেখা । সেই শ্লোক রাজা পড়ে যেতে লাগলেন ; উচ্চারণের বিকৃতি থেকে বহু কষ্টে তাদের উদ্ধার করবার চেষ্টা করা গেল । সমস্তটা ৰোগতত্বের উপদেশ। চিত্তবুদ্ধি, ত্রি-অক্ষরাত্মক ওঁ, চন্দ্রবিন্দু এবং অন্ত সমস্ত শব্দ ও ভাবনা বর্জন করে শুদ্ধ চৈতন্তযোগে স্থখমাপুয়াং– এই হচ্ছে সাধনা। আমি রাজাকে আশ্বাস দিলেম যে, আমরা এখানে যে সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত পাঠিয়ে দেব, তিনি এখানকার গ্রন্থগুলি থেকে বিকৃত ও বিশ্বত পাঠ উদ্ধার করে তার অর্থব্যাখ্যা করে দিতে পারবেন। এদিকে আমার শরীর অত্যন্ত ক্লাস্ত হতে চলল। প্রতি মুহূর্তে বুঝতে পারলুম, আমার শক্তিতে কুলোবে না। সৌভাগ্যক্রমে স্থনীতি আমাদের সঙ্গে আছেন ; তার অশ্বাস্ত উদ্যম, অদম্য উৎসাহ । তিনি ধুতি পরে, কোমরে পট্টবস্ত্র জড়িয়ে, পেঙ্গও'