পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী وVو\ « পায়ের ধ্বনি গনি গনি রাতের তারা জাগে । উত্তরায়ের হাওয়া এসে ফুলের বনে লাগে। ফাগুনবেলার বুকের মাঝে পথ-চাওয়া স্বর কেঁদে বাজে, প্রাণের কথা ভাষা হারায় চোখের জলে ঝরে । ১ । হায় হায়, খাটি কবি বটে রে । - ছেড়ে দেওয়া হবে না। দাদাশ্বশুরের আটচালার এক কোণে জায়গা করে দেব । ২। কবি, রচনা তোমারই বটে তো? ভণিতা নেই কেন। আমাদের বংশীলাল খুব লম্বা করেই ভণিতা লাগায় । নরেশ । ভণিতার সম্পর্ক রাখি নে। আমি জানি গান যে গায় গান তারই । গানটা আমার কি তোমার, এই অত্যন্ত বাজে প্রশ্ন যদি না তুলিয়ে দিলে তা হলে সে গান গানই নয় । ৩ । কিন্তু দেখো কবি, আমার কেমন মনে হচ্ছে এ গান আমি পূর্বে শুনেছি এই কাশ্মীরেই ৷ নরেশ । বড়ো খুশি হলুম এ কথা শুনে। তুমি রসিক লোক। ভালো গান শুনলেই মনে হয় এ গান আগেই শুনেছি। ৩ । মনে হচ্ছে আমাদের কবি শশাঙ্ক যেন ওইরকমের একটা— নরেশ । কিছুই অসম্ভব নয়, কোনো কোনো কবি থাকেন যার রচনা ঠিক অন্ত লোকের রচনার মতোই হয় । ৩। কবি, ইচ্ছে করছে তোমাকে একটা মালা দিই । নরেশ । মালা আমি নিই নে। আমার গান যার কণ্ঠে, আমার মালাও তারই কণ্ঠে পড়ে। ৪ । সে তো ভালো কথা । উনি মালা পরার যোগ্য বটেন । হা গা, তোমাদের ডালিতে তো মালা অনেক আছে, একখানা দাও-না ওঁকে পরিয়ে দিই । প্রথমা । হা, দিলাম বলে ! ৪। ভালোমামুষের ঝি, দিলে দোষ কী । দ্বিতীয়া । তোমরা দোষ দেখতে পাবে কেন । পথে ঘাটে মালা পরিয়ে বেড়ানো তোমাদের স্বভাব যে | ན། ৩ । মালি, রাগ কর কেন ? দ্বিতীয়া । আর ‘মালি’ ‘মালি’ করতে হবে না।