পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (একবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\SNoყ8 রবীন্দ্র-রচনাবলী বিংশতিকোটি মানবের বাস এ ভারতভূমি যবনের দাস রয়েছে পড়িয়া শৃঙ্খলে বাধা । আর্যাবর্তজয়ী মানব যাহারা সেই বংশোদ্ভব জাতি কি ইহারা, জন কত শুধু প্রহরী-পাহারা দেখিয়া নয়নে লেগেছে ধাধা । দেখা যাচ্ছে, ছন্দের বন্ধনে শব্দগুলোকে শৈথিল্য থেকে বাচিয়ে রেখেছে, এলিয়ে পড়ছে না, তারা একটা বিশেষ রূপ নিয়ে চলেছে । বাধন ভেঙে দেওয়া যাক । ‘ভারতভূমিতে বিংশতিকোটি মানব বাস করিয়া থাকে, তথাপি এই দেশ দাসত্বশৃঙ্খলে আবদ্ধ হইয়া আছে। যাহারা একদা আর্ষাবর্ত জয় করিয়াছিল ইহারা কি সেই বংশ হইতে উদ্ভূত। কয়েকজনমাত্র প্রহরীর পরিক্রমণ দেখিয়াই ইহাদের চক্ষুতে কি দৃষ্টিবিভ্রম ঘটিয়াছে।’ কথাগুলোর কোনো লোকসান হয় নি, বরঞ্চ হিসাব করে দেখলে কয়েক পারসেন্টু মুনফাই দেখা যায়। কিন্তু কেবল ব্যাকরণের বাধনে কথাগুলোকে অস্তরের দিকে সংঘবদ্ধ করে নি, তারই অভাবে সে শক্তি হারিয়েছে। উদাস মনের রুদ্ধ দ্বার ভাঙবার উদ্দেশে সবাই মিলে এক হয়ে ঘা দিতে পারছে না ।১ ছন্দর সঙ্গে অছন্দর তফাত এই যে, কথা একটাতে চলে, আর-একটাতে শুধু বলে কিন্তু চলে না । যে চলে সে কখনো খেলে, কখনো নাচে, কখনো লড়াই করে, হালে কাদে ; যে স্থির বসে থাকে সে আপিস চালায়, তর্ক করে, বিচার করে, হিলাব দেখে, দল পাকায় । ব্যবসায়ীর শুষ্ক প্রবীণতা ছন্দোহীন বাক্যে, অব্যবসায়ীর সরসচঞ্চল প্রাণের বেগ ছন্দোময় ছবিতে কাব্যে গানে । এই ছবি-গান-কাব্যকে আমরা গড়ে-তোলা জিনিস বলে অনুভব করি নে ; মনে লাগে, যেন তারা হয়ে-ওঠা পদার্থ। তাদের মধ্যে উপাদানের বাহ সংঘটনটা অত্যন্ত বেশি ধরা দেয় না ; দেখা যায় উদ্ভাবনার একটা অখণ্ড প্রকাশ, যে প্রকাশ একান্তভাবে আমাদের বোধের সঙ্গে মেলে। বিশ্বস্বষ্টিতে স্পন্দিত আকাশ, কম্পিত বাতাস, চঞ্চল হৃদয়াবেগ স্বায়ুতন্তুতে ছন্দোবিভঙ্গিত হয়ে আলোতে গানেতে বেদনায় আমাদের চৈতন্যে কেবলই এঁকে দিচ্ছে আলিম্পন । ছবি-গান-কাব্যও অাপন ছন্দঃম্পন্দনের ১ আরম্ভ হইতে প্রবন্ধের এই অনুচ্ছেদ পর্যন্ত অংশ সাময়িক পত্র হইতে গৃহীত হইয়াছে।