পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&br8 রবীন্দ্র-রচনাবলী বহিতেছে না ; তাহা ঘূর্ণির মতো একটা প্রবল কেন্দ্রের চারি দিকে ঘুরিতে ঘুরিতে তলার মুখেই ঝুঁকিতেছে। এমন সময় আপিস হইতে বাহির হইবার কালে হঠাৎ একদিন দেখিতে পাও স্রোতটা তোমাদের নকশার রেখা ছাড়াইয়া কিছুদূর আগাইয়া গেছে। তখন রাগিয়া গঙ্গাইতে গর্জাইতে বল, পাথর দিয়া বাধো উসকো, বাধ দিয়া উহাকে ঘেরে । প্রবাহ তখন পথ না পাইয়া উপরের দিক হইতে নীচের দিকে তলাইতে থাকে— সেই চোর-প্রবাহকে ঠেকাইতে গিয়া সমস্ত দেশের বক্ষ দীর্ণ বিদীর্ণ করিতে থাক । আমার সঙ্গে এই ছোটো-ইংরেজের যে-একটা বিরোধ ঘটিয়াছিল সে কথা বলি । বিনাবিচারে শতশত লোককে বন্দী করার বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে একখানি ছোটো চিঠি লিখিয়াছিলাম। ইহাতে ভারতজীবী কোনো ইংরেজি কাগজ আমাকে মিথুক ও extremist বলিয়াছিল। ইহারা ভারতশাসনের তকমাহীন সচিব, সুতরাং আমাদিগকে সত্য করিয়া জানা ইহাদের পক্ষে অনাবশ্বক, অতএব আমি ইহাদিগকে ক্ষমা করিব। এমন-কি, আমাদের দেশের লোক, র্যারা বলেন আমার পদ্যেও অর্থ নাই, গদ্যেও বস্তু নাই, তাদের মধ্যেও যে দুই-একজন ঘটনাক্রমে আমার লেখা পড়িয়াছেন তাহাদিগকে অন্তত এ কথাটুকু কবুল করিতেই হইবে যে, স্বদেশী উত্তেজনার দিন হইতে আজ পর্যন্ত আমি অতিশয়-পন্থার বিরুদ্ধে লিখিয়া আসিতেছি। আমি এই কথাই বলিয়া আসিতেছি যে, অষ্ঠায় করিয়া যে ফল পাওয়া যায় তাহাতে কখনোই শেষ পর্যন্ত ফলের দাম পোষায় না, অন্যায়ের ঋণটাই ভয়ংকর ভারী হইয়া উঠে। সে যাই হোক, দিশি বা বিলিতি যে-কোনো কালিতেই হোক-না আমার নিজের নামে কোনো লাঞ্ছনাতে আমি ভয় করিব না। আমার যেটা বলিবার কথা সে এই যে, অতিশয়-পস্থা বলিতে আমরা এই বুঝি, যে-পন্থা না ভদ্র, না বৈধ, না প্রকাগু ; অর্থাৎ সহজ পথে ফলের আশা ত্যাগ করিয়া অপথে বিপথে চলাকেই একট্রিমিজম্ বলে। এই পথটা যে নিরতিশয় গৰ্হিত সে কথা আমি জোরের সঙ্গেই নিজের লোককে বলিয়াছি, সেইজন্তই আমি জোরের সঙ্গেই বলিবার অধিকার রাখি যে, "একস্ট্রিমিজম্ গবর্মেন্টের নীতিতেও অপরাধ। আইনের রাস্ত বাধা রাস্তা বলিয়া মাঝে মাঝে তাহাতে গম্যস্থানে পৌছিতে ঘুর পড়ে বটে, কিন্তু তাই বলিয়া বেলজিয়মের বুকের উপর দিয়া সোজা হাটিয়া রাস্ত সংক্ষেপ করার মতো "একস্ট্রিমিজম্ কাহাকেও শোভা পায় না। ইংরেজিতে যাকে ‘শর্টকাটু’ বলে আদিমকালের ইতিহাসে তাহ চলিত ছিল । “লে আও, উকো শির লে আও” এই প্রণালীতে গ্রন্থি খুলিবার বিরক্তি বাচিয়া যাইত, এক কোপে গ্রন্থি কাটা পড়িত। যুরোপের অহংকার এই যে, সে আবিষ্কার