পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর } 心9仓 আকাশের বাণীও নির্মল হয়ে পৃথিবীকে পবিত্র করে না। পৃথিবীরই পাপ পৃথিবীতে আজকের দিনে সেই দুর্যোগ ঘটেছে। পৃথিবীর পাপের ধূলিতে আকাশের বর্ষণও আবিল হয়ে নামছে। নির্মল ধারায় পুণ্যস্নানের জন্তে অনেক দিনের যে-প্রতীক্ষা তাও আজ বারে বারে ব্যর্থ হল । মনের মধ্যে কাদা লাগছে এবং রক্তের চিহ্ন এসে পড়ছে ; বার বার কত আর মুছব। রক্তকলঙ্কিত পৃথিবী থেকে ঐ যে আজ একটা শাস্তির দরবার উঠেছে, উর্ধ্ব আকাশের নির্মল নিঃশবতা তার বেস্থরকে ধুয়ে দিতে পারছে না। শাস্তি ? শাস্তির দরবার সত্য সত্যই কে করতে পারে। ত্যাগের জন্তে যে প্রস্তুত। ভোগেরই জন্তে, লাভেরই জন্তে যাদের দশ আঙল অজগর সাপের দশটা লেজের মতো কিলবিল করছে তারা শাস্তি চায় বটে কিন্তু সে ফাকি দিয়ে ; দাম দিয়ে নয়। যে-শাস্তিতে পৃথিবীর সমস্ত ক্ষীরসর বাটি চেটে নিরাপদে খাওয়া যেতে পারে সেই শাস্তি । দুর্ভাগ্যক্রমে পৃথিবীর এই ক্ষীরসরের বড়ো বড়ো ভাণ্ডগুলো প্রায় আছে দুর্বলদের জিন্মায় । এইজন্ত ষে-ত্যাগশীলতায় সত্যকার শাস্তি সেই ত্যাগের ইচ্ছা প্রবলদের মনে কিছুতেই সহজ হতে পারছে না। যেখানে শক্ত পাহারা সেখানে লোভ দমন করতে বেশি চেষ্টা করতে হয় না। সেখানে মানুষ সংযত হয় এবং নিজেকে খুব ভালো ছেলে বলেই মনে করে। কিন্তু আলগা পাহারা যেখানে, সেখানে ভয়ও থাকে না, লজ্জাও চলে যায়। এমন-সব জায়গা আছে যেখানে ভালো ছেলে বলে নিজের পরিচয় দিলে লাভ আছে ; কিন্তু দুর্বলের সঙ্গে যেখানে কারবার সেখানে বেচারা প্রবলপক্ষের ভালো হওয়া সম্পূর্ণ নিঃস্বাৰ্থ বলেই যে কত কঠিন তার দৃষ্টাস্তের অভাব নেই। বিখ্যাত ফরাসীলেখক আনাতোল ফ্রাসের লেখা থেকে একটা জায়গা উদ্ধৃত করি। তিনি চীনদেশের সঙ্গে যুরোপের সম্বন্ধ আলোচনা উপলক্ষে লিখছেন : ..In our own times, the Christian acquired the habit of sending jointly or separately into that vast Empire, whenever order was disturbed, soldiers who restored it by means of theft, rape, pillage, murder, and incendiarism, and of proceeding at short intervals with the pacific penetration of the country with rifles and guns. The poorly armed Chinese either defend themselves badly or not at all, and so they are massacred with delightful facility... In 1901, order having been disturbed at Peking, the troops of the five Great Powers, under the command of a German Field-Marshal, restored it by the customary २8|२ ०