পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সোনার তরী আপনার বক্ষ হতে রসরক্ত নিয়ে প্রাণটুকু দিয়েছিস সস্তানের দেহে, অহৰ্নিশি মুখে তার আছিস তাকিয়ে অমৃত নারিস দিতে প্রাণপণ স্নেহে । কত যুগ হতে তুই বর্ণগন্ধগীতে স্বজন করিতেছিস আনন্দ-আবাস, আজো শেষ নাহি হল দিবসে নিশীথে,— স্বর্গ নাই, রচেছিস স্বর্গের আভাস । তাই তোর মুখখানি বিষাদকোমল, সকল সৌন্দর্যে তোর ভরা অশ্র জল । আত্মসমপণ তোমার আনন্দগানে আমি দিব স্বর যাহা জানি দু-একটি প্রতিস্বমধুর অস্তরের ছন্দোগাথা ; দুঃখের ক্ৰন্দনে বাজিবে আমার কণ্ঠ বিষাদবিধুর তোমার কণ্ঠের সনে ; কুনুমে চন্দনে তোমারে পূজিব আমি ; পরাব সিন্দুর তোমার সীমস্তে ভালে ; বিচিত্র বন্ধনে তোমারে বাধিব আমি ; প্রমোদসিন্ধুর তরঙ্গেতে দিব দোলা নব ছন্দে তানে । মানব-আত্মার গর্ব অার নাহি মোর চেয়ে তোর স্নিগ্ধশ্রাম মাতৃমুখ-পানে, ভালোবাসিয়াছি আমি ধূলিমাটি তোর । জন্মেছি যে মর্ত্য-কোলে ঘৃণা করি তারে ছুটিব না স্বৰ্গ আর মুক্তি খুজিবারে । ৫ অগ্রহায়ণ, ১৩e e \9–So S 86.