পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী محاول ج ইন্দুমতী। কেন দিদি, তাতে আমার কী প্রায়শ্চিত্তটা হবে । কমলমুখী। দেখ, ইন্দু, এ তো ভাই ইংরেজের ঘর নয়, তোকে তো বিয়ে করতেই হবে । মনটাকে অমন করে বন্ধ করে রাখিসনে— তুই যা মনে করিস ভাই, পুরুষমানুষ নিতান্তই বাঘভাল্লুকের জাত নয়— বাইরে থেকে খুব ভয়ংকর দেখায় কিন্তু ওদের বশ করা খুব সহজ । একবার পোষ মানলে ওই মস্ত প্রাণীগুলো এমনি গরিব গোবেচারা হয়ে থাকে যে দেখে হাসি পায় । পুরুষমানুষের মধ্যে তুই কি ভদ্রলোক দেখিসনি । কেন ভাই, কাকার কথা একবার ভেবে দেখ, না । ইন্দুমতী। তুই আমাকে এত কথা বলছিস কেন দিদি । আমি কি পুরুষমানুষের দুয়োরে আগুন দিতে যাচ্ছি। তারা খুব ভালো লোক, আমি তাদের কোনো অনিষ্ট করতে চাইনে । কমলমুখী । তোর যখন যা ইচ্ছে তাই করেছিস ইন্দু, কাক তাতে কোনো বাধা দেননি। আজ কাকার একটি অনুরোধ রাখবিনে ? ইন্দুমতী ৷ রাখব ভাই— তিনি যা বলবেন তাই শুনব । কমলমুখী। তবে চল, তোর চুলটা একটু ভালো করে দিই। নিজের উপরে এতটা অযত্ন করিসনে । [ প্রস্থান দ্বিতীয় দৃশ্য কমলমুখীর গৃহ নিমাই নিমাই । চন্দর যখন পীড়াপীড়ি করছে তা না-হয় একবার ইন্দুমতীর সঙ্গে দেখা করাই যাক। শুনেছি তিনি বেশ বুদ্ধিমতী সুশিক্ষিতা মেয়ে— তাকে আমার অবস্থা বুঝিয়ে বললে তিনি নিজেই আমাকে বিয়ে করতে অসম্মত হবেন । তা হলে আমার ঘাড় থেকে দায়টা যাবে— বাবাও আর পীড়াপীড়ি করবেন না । ঘোমটা পরিয়া ইন্দুমতীর প্রবেশ ইন্দুমতী। বাবা যখন বলছেন তখন দেখা করতেই হবে ; কিন্তু কারো অনুরোধে তো আর পছন্দ হয় না। বাবা কখনোই আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে দেবেন না।