পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চোখের বালি 9 »У ধরিল, পরে তাহার বই কাড়িয়া লইল, কহিল, “নিষ্ঠুর, আমি না থাকিলে তুমি আমার কথা ভাব না, পড়া লইয়া থাক ?” আশা কহিল, “তুমি আমাকে মুখ করিয়া রাখিৰে ?” মহেন্দ্ৰ কহিল, “তোমার কল্যাণে আমারই বা বিস্তা এমনই কী অগ্রসর হইতেছে।” কথাটা আশাকে হঠাৎ বাজিল ; তৎক্ষণাৎ চলিয়া যাইবার উপক্রম করিয়া কহিল, “আমি তোমার পড়ায় কী বাধা দিয়াছি।” : মহেন্দ্র তাহার হাত ধরিয়া কহিল, “তুমি তাহার কী বুঝিবে । আমাকে ছাড়িয়া তুমি যত সহজে পড়া করিতে পার, তোমাকে ছাড়িয়া তত সহজে আমি আমার পড়া করিতে পারি না।” গুরুতর দোষারোপ । ইহার পরে স্বভাবতই শরতের এক পসলার মতো এক দফা কান্নার স্বষ্টি হয় এবং অনতিকালমধ্যেই কেবল একটি সজল উজ্জলতা রাখিয়া সোহাগের সূর্যালোকে তাহা বিলীন হইয়া যায় । শিক্ষক যদি শিক্ষার সর্বপ্রধান অন্তরায় হন, তবে অবলা ছাত্রীর সাধ্য কী বিষ্কারণ্যের মধ্যে পথ করিয়া চলে। মাঝে মাঝে মাসিমার তীব্র ভৎসনা মনে পড়িয়া চিত্ত বিচলিত হয়— বুঝিতে পারে, লেখাপড়া একটা ছুতা মাত্র ; শাশুড়ীকে দেখিলে লজ্জায় মরিয়া যায়। কিন্তু শাশুড়ী তাহাকে কোনো কাজ করিতে বলেন না, কোনো উপদেশ দেন না ; অনাদিষ্ট হইয়া আশা শাশুড়ীর গৃহকার্যে সাহায্য করিতে গেলে, তিনি ব্যস্তসমস্ত হইয়া বলেন, “কর কী, কর কী, শোবার ঘরে যাও, তোমার পড়া কামাই যাইতেছে।” অবশেষে অন্নপূর্ণ। আশাকে কহিলেন, “তোর যা শিক্ষা হইতেছে, সে তো দেখিতেছি, এখন মহিনকেও কি ডাক্তারি দিতে দিবি না।” শুনিয়া আশা মনকে খুব শক্ত করিল— মহেন্দ্রকে বলিল, “তোমার একৃজামিনের পড়া হইতেছে না— আজ হইতে আমি নিচে মাসিমার ঘরে গিয়া থাকিব ।” এ বয়সে এতবড়ো কঠিন সন্ন্যাসব্রত ! শয়নালয় হইতে একেবারে মাসিমার ঘরে আত্মনির্বাসন ! এই কঠোর প্রতিজ্ঞা উচ্চারণ করিতে তাহার চোখের প্রাস্তে জল আসিয়া পড়িল, তাহার অবাধ্য ক্ষুত্র অধর কঁাপিয়া উঠিল এবং কণ্ঠস্বর রুদ্ধপ্রায় ट्झेब्रां यांनिज । মহেন্দ্ৰ কহিল, “তবে তাই চলো, কাকীর ঘরেই যাওয়া যাক— কিন্তু তাছা হইলে তাহাকে উপরে আমাদের ঘরে আসিতে হইবে।” - আশা এতবড়ো উদার গভীর প্রস্তাৰে পরিহাস প্রাপ্ত হইয়া রাগ করিল। মহেন্দ্র \రి=\లి)