পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সোনার তরী আমার আমারে ; নগ্ন বক্ষে বক্ষ দিয়া অস্তর-রহস্য তব শুনে নিই প্রিয়া । । তোমার হৃদয়কম্প অঙ্গুলির মতো আমার হৃদয়তন্ত্রী করিবে প্রহত, ংগীত-তরঙ্গধবনি উঠিবে গুঞ্জরি সমস্ত জীবন ব্যাপি থরথর করি । নাই বা বুঝিকু কিছু, নাই বা বলিচু, নাই বা গথিতু গান, নাই বা চলিহু ছন্দোবদ্ধ পথে, সলজ্জ হৃদয়খানি টানিয়া বাহিরে । শুধু ভুলে গিয়ে বাণী কঁাপিব সংগীতভরে, নক্ষত্রের প্রায় শিহরি জলিব শুধু কম্পিত শিখায়, শুধু তরঙ্গের মতো ভাঙিয়া পড়িব তোমার তরঙ্গপানে, বাচিব মরিব শুধু, আর কিছু করিব না। দাও সেই প্রকাগু প্রবাহ, যাহে এক মুহূর্তেই জীবন করিয়া পূর্ণ, কথা না বলিয়া উন্মত্ত হইয়া যাই উদাম চলিয়া । মানসীরূপিণী ওগো, বাসনাবাসিনী, আলোকবসনা ওগো, নীরবভাষিণী, পরজন্মে তুমি কি গো মূর্তিমতী হয়ে জন্মিবে মানব-গৃহে নারীরূপ লয়ে অনিন্দ্যস্থদেরী ? এখন ভাসিছ তুমি অনস্তের মাঝে ; স্বৰ্গ হতে মর্ত্যভূমি করিছ বিহার ; সন্ধ্যার কনকবর্ণে রাঙিছ অঞ্চল ; উষার গলিত স্বর্ণে গড়িছ মেখলা ; পূর্ণ তটিনীর জলে করিছ বিস্তার, তলতল ছলছলে 이