পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


는 68 রবীন্দ্র-রচনাবলী জড়াইয়া পড়িল । ষে-সকল জেলে ভিন্ন এলেকার, তাহাদের আর দেখা পাওয়া ধায় না ; কিন্তু, মধুকৈবর্ত ভিটাবাড়ির প্রজ, তাহার পলাইবার জো নাই বলিয়া সমস্ত দেনার দায় তাহার উপরেই চাপিয়াছে। সর্বনাশ হইতে রক্ষা পাইবার অনুরোধ লইয়া সে কিরণের শরণাপন্ন হইয়াছে। কিরণের শাশুড়ির কাছে গিয়া কোনো ফল নাই তাহা সকলেই জানে ; কেননা নীলকণ্ঠের ব্যবস্থায় কেহ যে আঁচড়টুকু কাটিতে পারে, এ কথা তিনি কল্পনা করিতেও পারেন না । নীলকণ্ঠের প্রতি বনোয়ারির খুব একটা আক্রোশ আছে জানিয়াই মধুকৈবর্ত তাহার স্ত্রীকে কিরণের কাছে পাঠাইয়াছে। বনোয়ারি যতই রাগ এবং যতই আস্ফালন করুক, কিরণ নিশ্চয় জানে যে, নীলকণ্ঠের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করিবার কোনো অধিকার তাহার নাই। এই জন্ত কিরণ স্বখদাকে বার বার করিয়া বুঝাইবার চেষ্টা করিয়া বলিল, “বাছা, কী করব বলে । জানই তো এতে আমাদের কোনো হাত নেই। কর্তা আছেন, মধুকে বলে, তাকে গিয়ে ५क्लक !* 彝 সে চেষ্টা তো পূর্বেই হইয়াছে । মনোহরলালের কাছে কোনো বিষয়ে নালিশ উঠিলেই তিনি তাহার বিচারের ভার নীলকণ্ঠের পরেই অর্পণ করেন, কখনোই তাহার অন্যথা হয় না। ইহাতে বিচারপ্রার্থীর বিপদ আরো বাড়িয়া উঠে । দ্বিতীয়বার কেহ যদি তাহার কাছে আপীল করিতে চায় তাছা হইলে কর্তা রাগিয়া আগুন হইয়া উঠেন – বিষয়ুকর্মের বিরক্তিই যদি তাহাকে পোহাইতে হইল তবে বিষয় ভোগ করিয়া র্তাহার মুখ কী । স্বখদা যখন কিরণের কাছে কান্নাকাটি করিতেছে তখন পাশের ঘরে বসিয়া বনোয়ারি তাহার বন্দুকের চোঙে তেল মাথাইতেছিল। বনোয়ারি সব কথাই শুনিল । কিরণ করুণকণ্ঠে যে বার বার করিয়া বলিতে ছিল যে, তাহারা ইহার কোনো প্রতিকার করিতে সক্ষম, সেটা বনোয়ারির বুকে শেলের মতো বিধিল । সেদিন মাঘীপূর্ণিমা ফাল্গুনের আরম্ভে আসিয়া পড়িয়াছে। দিনের বেলাকার গুমট ভাঙিয়া সন্ধ্যাবেলায় হঠাৎ একটা পাগলা হাওয়া মাতিয়া উঠিল । কোকিল তো ডাৰিয়া ডাকিয়া অস্থির ; বারবার এক স্বরের আঘাতে সে কোথাকার কোন ঔদাসীন্তকে বিচলিত করিবার চেষ্টা করিতেছে । আর, আকাশে ফুলগন্ধের মেলা বসিয়াছে, যেন ঠেলাঠেলি ভিড় ; জানলার ঠিক পাশেই অন্তঃপুরের বাগান হইতে মুচুকুন্দকুলের গন্ধ বসন্তের আকাশে নিবিড় নেশা ধরাইয়া দিল । কিরণ সেদিন লটুকানের রঙ-করা একখানি শাড়ি এবং খোপায় বেলফুলের মালা পরিয়াছে। এই দম্পতির চিরনিয়ম - অনুসারে সেদিন বনোয়ারির জন্যও ফাল্গুন-ঋতুষাপনের উপযোগী একখানি লটুকনে