পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের পথে OOථ করেছিল। সেদিন এমন কত ঘটেছে তার খবর কে রাখে। তাই তো রাজা নিজেকে লক্ষ্য করে বলেছে, ‘সক্কংকৃতপ্রণয়োহয়ং জন । রাজার সকুংপ্ৰণয়ের প্রাত্যহিক উচ্ছিষ্টদের লক্ষ্য ক’রে দেখবার, মনে ক’রে রাখবার, এত সময় আছে কার । কাজকর্ম তো থেমে থাকে না, কেনাবেচা তো চলছেই, হাটের মধ্যে যে ঠেলাঠেলি ভিড় । সেই ংসারের পথে হংসপদি কাদের পদচিহ্ন কোথাও পড়ে না, তাদের ঠেলে সরিয়ে ফেলে জীবনযাত্রার অসংখ্য যাত্রী ব্যস্ত হয়ে চলে যায় । কিন্তু, একটি তপোবনের বালিকাকে অসংখ্যের তুচ্ছলোক থেকে একের সত্যলোকে স্বম্পষ্ট ক'রে দাড় করালে কে । সেও একটি কবির বাশি । যে সত্য প্রতিদিন ট্রামের ঘর্ঘরধ্বনি ও দরদামের হটগোলের মধ্যে চাপা পড়ে থাকে, খাম্বাজের করুণ রাগিণী আমাদের গলির মোড়ে সেই সত্যকে উদ্ধার করবার জন্তে সুরের অমৃত বর্ষণ করছে । তথ্যের সংকীর্ণতার থেকে মানুষ যেমনি সত্যের অসীমতায় প্রবেশ করে আমনি তার মূল্যের কত পরিবর্তন হয়, সে কি আমরা দেখি নে। রাখাল যখন ব্রজের রাখাল হয়ে দেখা দেয় তখন কি মথুরার রাজপুত্র ব’লে তার মূল্য। তখন কি তার পাচনির মহিমা গদাচক্রের চেয়ে কম । তার বাশি কি পাঞ্চজন্তের কাছে লজ্জা পায় । সত্য যে সে কি মণিমালা ফেলে দিয়ে বনফুলের মালা পরতে কুষ্ঠিত । সেই রাখালবেশের সত্যকে প্রকাশ করতে পারে কে । সে তো কবির বাশি । রাজাধিরাজ মহারাজ নিজের মহিমা প্রকাশ করবার জন্তে কী আয়োজনই না করলে । তবু আজ বাদে কাল সেই বিপুল আয়োজনের বোঝা নিয়ে ঝঞ্চাশেষের মেঘের মতো দিগন্তরালে সে যায় মিলিয়ে । কিন্তু, সাহিত্যের অমরাবতীতে কলার নিত্য-নিকেতনে একটি পথের ভিক্ষু যে অথও সত্যে বিরাজ করে সেই সত্যের ক্ষয় নেই। রোমিয়ো-জুলিয়েটকে যখন সাহিত্যভুবনে দেখি তখন কোনো মূঢ় জিজ্ঞাসা করে না, ব্যাঙ্কে তাদের কত টাকা জমা আছে, ষড়দর্শনে তাদের ব্যুৎপত্তি কত দূর, এমন-কি দেবদ্বিজে তারা ভক্তিমান কি না এবং নিত্য নিয়মিত সন্ধ্যাহিকে তাদের কী পরিমাণ নিষ্ঠ । তারা সত্য এইমাত্র তাদের মহিমা ; সাহিত্য সেই কথাই প্রমাণ করে । সেই সত্যে যদি তিলমাত্র ব্যত্যয় ঘটে, অথচ নায়ক নায়িকা দোহে মিলে যদি দশাবতারের স্বনিপুণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ব। গীতার শ্লোক থেকে দেশাত্মবোধের আশ্চর্ষ অর্থ উদঘাটন করতে পারে, তবু তাদের কেউ বাচাতে পারবে না । শুধু কেবল মানুষ কেন, অজীব সামগ্রীকে যখন আমরা কাব্যকলার রথে তুলে তথ্যসীমার বাহিরে নিয়ে যাই তখন সত্যের মূল্যে সে মূল্যবান হয়ে ওঠে। কলকাতায় আমার এক কাঠা জমির দাম পাচ-দশ হাজার টাকা হতে পারে,কিন্তু সত্যের রাজত্বে সেই २७|२ ॐ