পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8ybo রবীন্দ্র-রচনাবলী সাহিত্যবিচারকালে বিদেশী প্রভাবের বা বিদেশী প্রকৃতির খোটা দিয়ে বর্ণসংকরত। বা ব্রাত্যতার তর্ক যেন না তোলা হয় । আরও একটা শ্রেণীবিচারের কথা এই উপলক্ষ্যে আমার মনে পড়ল। মনে পড়বার কারণ এই যে, কিছুদিন পূর্বেই আমার যোগাযোগ উপন্যাসের কুমর চরিত্র সম্বন্ধে আলোচনা ক’রে কোনো লেখিকা আমাকে পত্র লিখেছেন। তাতে বুঝতে পারা গেল, সাহিত্যে নারীকেও একটি স্বতন্ত্র শ্রেণীতে দাড় করিয়ে দেখবার একটা উত্তেজনা সম্প্রতি প্রবল হয়ে উঠেছে । যেমন আজকাল তরুণবয়স্কের দল হঠাৎ ব্যক্তির সীম৷ অতিক্রম করে দলপতিদের চাটক্তির চোটে বিনামূল্যে একটা অত্যন্ত উচ্চ এবং বিশেষ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, নারীদেরও সেই দশা। সাহিত্যের নারীতে নারীত্ব নামক একটা শ্রেণীগত সাধারণ গুণ আছে কি না, এই তর্কট। সাহিত্যবিচারে প্রাধান্তলাভের চেষ্টা করছে। এরই ফলে কুমু ব্যক্তিগত ভাবে সম্পূর্ণ কুমু কিনা এই সাহিত্যসংগত প্রশ্নট কারও কারও লেখনীতে বদলে গিয়ে দাড়াচ্ছে, কুমু মানবসমাজে নারী-নামক জাতির প্রতিনিধির পদ নিতে পারছে কিনা— অর্থাৎ তাকে নিয়ে সমস্ত নারীপ্রকৃতির উৎকর্ষ স্থাপন করা হয়েছে কিনা। মানবপ্রকৃতির যা কিছু সাধারণ গুণ তারই প্রতি লক্ষ্য মনোবিজ্ঞানের, আর ব্যক্তিবিশেষের যে অনন্যসাধারণ প্রকৃতি তারই প্রতি লক্ষ্য সাহিত্যের। অবশু, এ কথা বলাই বাহুল্য, নারীকে অঁাকতে গিয়ে তাকে অ-নারী ক’রে অণকা পাগলামি । বস্তুত, সে কথা আলোচনা করাই অনাবশুক । সাহিত্যে কুমুর যদি কোনো আদর হয় তো সে হবে সে ব্যক্তিগত কুমু ব’লেই, সে নারীশ্রেণীর প্রতিনিধি ব’লে নয় । কথা উঠেছে, সাহিত্যবিচারে বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি শ্রদ্ধেয় কিনা। এ প্রশ্নের উত্তর দেবার পূর্বে আলোচ্য এই— কী সংগ্রহ করার জন্তে বিশ্লেষণ। আলোচ্য সাহিত্যের উপাদান-অংশগুলি ? আমি বলি সেটা অত্যাবস্তক নয় ; কারণ, উপাদানকে একত্র করার দ্বারা স্বষ্টি হয় না। সমগ্র স্বষ্টি অপেন সমস্ত অংশের চেয়ে অনেক বেশি । সেই বেশিটুকু পরিমাণগত নয় । তাকে মাপা যায় না, ওজন করা যায় না, সেটা হল রূপরহস্ত, সকল স্বষ্টির মূলে প্রচ্ছন্ন। প্রত্যেক স্বষ্টির মধ্যে সেটাই হল অদ্বৈত, বছর মধ্যে সে ব্যাপ্ত, অথচ বহুর দ্বারা তার পরিমাপ হয় না । সে স-কল অর্থাৎ তার মধ্যে সমস্ত অংশ আছে, তবু সে নিষ্কল, তাকে অংশে খণ্ডিত করলেই সে থাকে না। অতএব সাহিত্যে সমগ্রকে সমগ্ৰদূষ্ট দিয়েই দেখতে হবে। আজকাল সাইকো-এনালিসিসের বুলি অনেকের মনকে পেয়ে বসে। স্মৃষ্টিতে অবিশ্লেস্থ্য সমগ্রতার গৌরব খর্ব করবার মনোভাব জেগে উঠেছে। মানুষের চিত্তের উপকরণে নানাপ্রকার প্রবৃত্তি আছে, কাম