পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8èS রবীন্দ্র-রচনাবলী মনে হতে পারে যে, ঐ গল্প লেখার আহুষঙ্গিকভাবে একটা সামাজিক মতলৰ তার মাথায় এসেছিল। কুন্দনন্দিনী স্থৰ্যমুখীকে নিয়ে যে একটা উৎপাতের স্বষ্টি হয়েছিল সেটা গৃহধর্মের পক্ষে ভালো নয়, এই অতি জীর্ণ কথাটাকে প্রমাণ করবার উদেশ্ব রচনাকালে সত্যই যে তার মনে ছিল, এ আমি বিশ্বাস করি নে— ওটা হঠাৎ পুনশ্চনিবেদন ; বস্তুত তিনি রূপমুগ্ধ রূপভ্রষ্টা রূপস্রষ্টা রূপেই বিষবৃক্ষ লিখেছিলেন। নবযুগের কোনো সাহিত্যনায়ক যদি এসে থাকেন তাকে জিজ্ঞাসা করব, সাহিত্যে তিনি কোন নবরূপের অবতারণা করেছেন । ইংরেজি সাহিত্যের থেকে দেখা যাক । একদিন সাহিত্যের আসরে পোপ ছিলেন নেতা। তার ছিল ঝকঝকে পালিস-করা লেখা ; কাটাকোট ছাটাছোট জোড়াদেওয়া দ্বিপদীর গাথনি । তাতে ছিল নিপুণ ভাষা ও তীক্ষ ভাবের উজ্জলতা, রসধারার প্রবাহ ছিল না। শক্তি ছিল তাতে, তখনকার লোকে তাতে প্রচুর আনন্দ পেয়েছিল। এমন সময়ে এলেন বাবৃন্স। তখনকার শান-বাধানে সাহিত্যের রাস্তা, যেখানে তকৃমা-পরা কায়দাকান্থনের চলাচল, তার উপর দিয়ে হঠাৎ তিনি প্রাণের বসন্তউৎসবের যাত্রীদের চালিয়ে নিলেন। এমন একটি সাহিত্যের রূপ আনলেন যেটা আগেকার সঙ্গে মিলল না। তার পর থেকে ওয়ার্ড স্বার্থ, কোলরিজ, শেলি, কীটস আপন জাপন কাব্যের স্বকীয় রূপ স্থষ্টি করে চললেন । সেই রূপের মধ্যে ভাবের বিশিষ্টতাও আছে, কিন্তু ভাবগুলি রূপবান হয়েছে ব’লেই তার গৌরব। কাব্যের বিষয় ভাষা ও রূপ সম্বন্ধে ওয়ার্ড স্বার্থের বাধা মত ছিল, কিন্তু সেই বাধা মতের মাছুযটি কবি নন ; যেখানে সেই-সমস্ত মতকে বেমালুম পেরিয়ে গেছেন সেইখানেই তিনি কবি। মানবজীবনের সহজ স্থখদু:খে প্রকৃতির সহজ সৌন্দর্ষে আনন্দই সাধারণত ওয়ার্ড স্বার্থের কাব্যের অবলম্বন বলা যেতে পারে। কিন্তু, টমসন একেনসাইড প্রভৃতি তৃতীয় শ্রেণীর কবিদের রচনার মধ্যেও এই বিষয়টি পাওয়া যায়। কিন্তু, বিষয়ের গৌরব। তো কাব্যের গৌরব নয় ; বিষয়টি রূপে মূর্তিমান যদি হয়ে থাকে তা হলেই কাব্যের অমরলোকে সে থেকে গেল। শরৎকালকে সম্বোধন করে কীটস যে-কবিতা লিখেছেন তার বিষয় বিশ্লেষণ করে কীই বা পাওয়া ধায় ; তার সমস্তটাতেই রূপের জাছ। যুরোপীয় সাহিত্য আমার যে বিশেষ জানা আছে, এমন অহংকার আমি করি নে। শুনতে পাই, দাস্তে, গ্যটে, ভিক্টর হুগো আপন আপন রূপের জগৎ স্বষ্টি করে গেছেন। সেই রূপের লীলায় ঢেলে দিয়েছেন তাদের জানন্দ । সাহিত্যে এই নব নব রূপম্রষ্টার সংখ্যা বেশি নয় । 鸭 এই উপলক্ষ্যে একটা কথা বলতে চাই। সম্প্রতি সাহিত্যের যুগ-যুগাম্ভর কথাটার