পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>brや রবীন্দ্র-রচনাবলী কিন্তু স্থির হয়ে বসে বলে দেখি একবার,— ‘দিলেম আমি। সকলের চেয়ে যা দুমুল্য তাই দিলেম তাকে র্যাকে সকলের চেয়ে ভালোবাসি’– সব ভার যাবে একমুহূর্তে নেমে । মন ভরে উঠবে আনন্দে। গুরুকে দরকার নেই ; এখনই বলে,— ‘দিলেম, দিলেম, কিছুই হাতে রাখলেম না, আমার সব কিছু দিলেম, নির্মুক্ত হয়ে নির্মল হয়ে যাবার জন্যে প্রস্তুত হলেম, কোনো দুঃখের গ্রন্থি জড়িয়ে রেখে গেলেম না সংসারে’ ।” “আহা, বলে, বলে ঠাকুরপো, বার বার করে শোনাও আমাকে । তাকে এ পর্যস্ত যা-কিছু দিতে পেরেছি তাতেই পেয়েছি আনন্দ, আজ যা দিতে পারছি নে, তাতেই এত করে মারছে। দেব, দেব, দেব, সব দেব আমার— আর দেরি নয়, এখনই। তুমি তাকে ডেকে নিয়ে এসো।” “আজ নয় বউদি, কিছুদিন ধরে মনটাকে বেঁধে নাও, সহজ হোক তোমার সংকল্প।” “না, না, আর সইতে পারছি নে । যখন থেকে বলে গেছেন এ বাড়ি ছেড়ে জাপানী ঘরে গিয়ে থাকবেন তখন থেকে এ শয্যা আমার কাছে চিতাশয্যা হয়ে উঠেছে। যদি ফিরে না আসেন এ রাত্তির কাটবে না, বুক ফেটে মরে যাব। অমনি ডেকে এনে সরলাকে, আমি শেল উপড়ে ফেলব বুকের থেকে, ভয় পাব না— এই তোমাকে বলছি নিশ্চয় করে।” “সময় হয় নি বউদি, আজ থাক।” “সময় যায় পাছে এই ভয় । এক্ষণি ডেকে আনে ৷” পরমহংসদেবের ছবির দিকে তাকিয়ে দু হাত জোড় করে বললে, “বল দাও ঠাকুর, বল দাও, মুক্তি দাও মতিহীন অধম নারীকে। আমার দুঃখ আমার ভগবানকে ঠেকিয়ে রেখেছে, পূজা অর্চনা সব গেল আমার । ঠাকুরপো, একটা কথা বলি আপত্তি কোরো না।” “কী বলে ।” “একবার আমাকে ঠাকুরঘরে যেতে দাও দশ মিনিটের জন্যে, তা হলে আমি বল পাব, কোনো ভয় থাকবে না।” “আচ্ছা, যাও, আপত্তি করব না।” “আয়ো ।” “কী খোখী ।” “ঠাকুরঘরে নিয়ে চল আমাকে ।” “সে কী কথা। ডাক্তারবাৰু—” “ডাক্তারবাৰু যমকে ঠেকাতে পারবে না আর আমার ঠাকুরকে ঠেকাবে ?”