পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(?わ〜 রবীন্দ্র-রচনাবলী হে হংস-বলাকা, ঝঙ্কা-মদরসে মত্ত তোমাদের পণখা রাশি রাশি আনন্দের অট্টহাসে বিস্ময়ের জাগরণ তরঙ্গিয়া চলিল আকাশে । ঐ পক্ষধ্বনি, শব্দময়ী অপার-রমণী গেল চলি স্তব্ধতার তপোভঙ্গ করি । উঠিল শিহরি গিরিশ্ৰেণী তিমির-মগন, শিহরিল দেওদার-বন । মনে হল এ পাখার বাণী দিল অগনি শুধু পলকের তরে পুলকিত নিশ্চলের অস্তরে অস্তরে বেগের অণবেগ । পর্বত চাহিল হতে বৈশাখের নিরুদ্দেশ মেঘ ; তরুশ্রেণী চাহে, পাখা মেলি মাটির বন্ধন ফেলি ওই শব্দরেখা ধরে চকিতে হইতে দিশহারা, আকাশের খুজিতে কিনারা । এ সন্ধ্যার স্বপ্ন টুটে বেদনার ঢেউ উঠে জাগি স্থদুরের লাগি, হে পণখা বিবাগী । বাজিল ব্যাকুল বাণী নিখিলের প্রাণে— “হেথা নয়, হেথা নয়, আর কোনখানে ৷” হে হংস-বলাকা, আজ রাত্রে মোর কাছে খুলে দিলে স্তব্ধতার ঢাকা ।