পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


వ8 রবীন্দ্র-রচনাবলী তখন যুচবে ত্বরা, ঘুরিয়া মরা হেথা হোথায়। চেয়ে দেখিস না রে হৃদয় দ্বারে কে আসে যায়— তোরা শুনিস কানে বারতা আনে দখিন বায় । আজি ফুলের বাসে মুখের হাসে আকুল গানে চির বসন্ত যে তোমারি খোজে এসেছে প্রাণে, তারে বাহিরে খুজি ফিরিছ বুঝি পাগলপ্রায়— আহা আজি সে অঁাথি বনের পাখি বনে পালায় ॥ অন্ধকারে বীণা বাজে। অন্ধকারে গান্ধবীকলার নৃত্যে বধূকে বর প্রদক্ষিণ করে । সেই নৃত্যকলা নির্বাসনের সঙ্গিনী হয়ে এসেছে তার মর্তদেহে । নৃত্যের বেদন রানীর বক্ষে আঘাত করে, নিশীথরাত্রে সমুদ্রে জোয়ার এলে তার ঢেউ যেমন লাগে তটভূমিতে, অশ্রীতে দেয় প্লাবিত করে। * একদিন রাত্রির তৃতীয় প্রহর, শুকতারা পূর্বগগনে ; কমলিক তার সুগন্ধি এলোচুলে দিলে রাজার দুই পা ঢেকে ; বললে, “আদেশ করে আজ উষার প্রথম আলোকে তোমাকে প্রথম দেখব। নইলে আমি বিদায় নিয়ে যাই, রেখে যাই আমার কান্না এই অন্ধকারের বুকে— যতক্ষণ না আমাকে ফিরে ডেকে আন তোমার আলোর সভায় ।” আমি এলেম তোমার দ্বারে, ডাক দিলেম অন্ধকারে । আগল ধরে দিলেম নাড়া, প্রহর গেল পাই নি সাড়া, দেখতে পেলেম না তোমারে । তবে যাবার আগে এখান থেকে এই লিখনথানি যাব রেখে । দেখা তোমার পাই বা না পাই দেখতে এলেম জেনো গে। তাই, ফিরে যাই স্থদুরের পারে। রাজা বললে, “প্রিয়ে, না-দেখার নিবিড় মিলনকে নষ্ট কোরে না, এই মিনতি । এখনো তুমি অন্তমনে আছ, শুভদৃষ্টির সময় তাই এল না।”