পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শাপমোচন . な)○ যাবার আগে যাও গো আমায় জাগিয়ে দিয়ে, রক্তে তোমার চরণদোল লাগিয়ে দিয়ে। আঁধার নিশার বক্ষে যেমন তারা জাগে, পাষাণগুহার কক্ষে নিঝর-ধারা জাগে, মেঘের বুকে যেমন মেঘের মন্দ্র জাগে, বিশ্বনাচের কেন্দ্রে যেমন ছন্দ জাগে— 卤 তেমনি আমায় দোল দিয়ে যাও যাবার পথে আগিয়ে দিয়ে কঁাদন বাধন ভাগিয়ে দিয়ে ॥ রাজবধু এল পতিগৃহে । দীপ জলে না, ঘর থাকে অন্ধকার, সেই ঘরে প্রতি রাত্রে স্বামীর কাছে বধু সমাগম । কমলিকা বলে, “প্রভু, তোমাকে দেখবার জন্তে আমার দিন, আমার রাত্রি উৎসুক। আমাকে দেখা দাও।” এসো আমার ঘরে, বাহির হয়ে এসে তুমি যে আছ অস্তরে। দুঃখমুখের দোলে এসো, প্রাণের হিল্লোলে এসো, স্বপনতুয়ার খুলে এসো অরুণ-আলোকে মুগ্ধ এ চোখে । এবার ফুলের প্রফুল্পরূপ এসো বুকের পরে ॥ রাজা বলে, “আমার গানেই তুমি আমাকে দেখো। আগে দেখে নাও অস্তরে, বাইরে দেখবার দিন আসবে তার পরে। নইলে ভুল হবে, ছন্দ যাবে ভেঙে।” কোথা বাইরে দূরে যায় রে উড়ে হায় রে হায়, তোমার চপল আঁখি বনের পাখি বনে পালায় । ওগো, হৃদয়ে যবে মোহন রবে বাজবে বঁাশি তখন আপনি সেধে ফিরবে কেঁদে, পরবে ফাসি— २२1b