পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


는 89 রবীন্দ্র-রচনাবলী দ্রুতবেগে আণ্ডলে জড়াইতে এবং খুলিতে লাগিল। অশ্র সম্বরণ করা আর যায় না। চাকর আসিয়া কহিল, “মাঠাকরুন, বাবুর জন্যে ডাব বের করে দিতে হবে।” চারু আঁচল হইতে ভাড়ারের চাবি খুলিয়া ঝন করিয়া চাকরের পায়ের কাছে ফেলিয়া দিল— সে আশ্চর্য হইয়া চাবি লইয়া চলিয়া গেল । চারুর বুকের কাছ হইতে কী একটা ঠেলিয়া কণ্ঠের কাছে উঠিয়া আসিতে লাগিল । যথাসময়ে ভূপতি সহাস্যমুখে থাইতে আসিল । চারু পাখা হাতে আহারস্থানে উপস্থিত হইয়া দেখিল, অমল ভূপতির সঙ্গে আসিয়াছে। চারু তাহার মুখের দিকে फ्रांश्लि मां । অমল জিজ্ঞাসা করিল, “বোঠান, আমাকে ডাকছ ?” চারু কহিল, “না, এখন আর দরকার নেই।” অমল। তা হলে আমি যাই, আমার আবার অনেক গোছাবার আছে। চারু তখন দীপ্তচক্ষে একবার অমলের মুখের দিকে চাহিল ; কহিল, “যাও ।” অমল চারুর মুখের দিকে একবার চাহিয়া চলিয়া গেল। আহারাস্তে ভূপতি কিছুক্ষণ চারুর কাছে বসিয়া থাকে। আজ দেনাপাওনাহিসাবপত্রের হাঙ্গামে ভূপতি অত্যন্ত ব্যস্ত— তাই আজ অন্তঃপুরে বেশিক্ষণ থাকিতে পারিবে না বলিয়া কিছু ক্ষুন্ন হইয়া কহিল, “আজ আর আমি বেশিক্ষণ বসতে পারছি নে— আজি অনেক ঝঞ্চাট ।” চারু বলিল, “তা যাও-না।” ভূপতি ভাবিল, চারু অভিমান করিল। বলিল, “তাই বলে যে এখনই যেতে হবে তা নয় ; একটু জিরিয়ে যেতে হবে।” বলিয়া বসিল। দেখিল চারু বিমর্ষ হইয়। আছে । ভূপতি অনুতপ্ত চিত্তে অনেকক্ষণ বসিয়া রহিল, কিন্তু কোনোমতেই কথা জমাইতে পারিল না। অনেকক্ষণ কথোপকথনের বৃথা চেষ্টা করিয়া ভূপতি কহিল, “অমল তো কাল চলে যাচ্ছে, কিছুদিন তোমার বোধ হয় খুব একলা বোধ হবে।” চারু তাহার কোনো উত্তর না দিয়া যেন কী একটা আনিতে চট্‌ করিয়া অন্য ঘরে চলিয়া গেল। ভূপতি কিয়ৎক্ষণ অপেক্ষা করিয়া বাহিরে প্রস্থান করিল। চারু আজ আমলের মুখের দিকে চাহিয়া লক্ষ করিয়াছিল অমল এই কয়দিনেই অত্যন্ত রোগ হইয়া গেছে— তাহার মুখে তরুণতার সেই ফুতি একেবারে নাই। ইহাতে চারু স্থখও পাইল বেদনাও বোধ করিল। আসন্ন বিচ্ছেদই যে অমলকে ক্লিষ্ট করিতেছে, চারুর তাহাতে সন্দেহ রহিল না— কিন্তু তবু অমলের এমন ব্যবহার