পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রান্তিক yo শরৎ উঠিল হেসে চমকিত গগনপ্রাঙ্গণে ; পল্লবে পল্লবে কঁাপি বনলক্ষ্মী কিঙ্কিণীকঙ্কণে বিচ্ছুরিল দিকে দিকে জ্যোতিষ্কণা। আজি হেরি চোখে কোন অনির্বচনীয় নবীনেরে তরুণ আলোকে । যেন আমি তীর্থযাত্রী অতিদূর ভৰীিকাল হতে মন্ত্রবলে এসেছি ভাসিয়া । উজান স্বপ্নের স্রোতে অকস্মাৎ উত্তরিকু বর্তমান শতাব্দীর ঘাটে যেন এই মুহূর্তেই। চেয়ে চেয়ে বেলা মোর কাটে । আপনারে দেখি আমি আপন বাহিরে, যেন আমি অপর যুগের কোনো অজানিত, সন্ত গেছে নামি সত্তা হতে প্রত্যহের আচ্ছাদন ; অক্লাস্ত বিস্ময় যার পানে চক্ষু মেলি তারে যেন অঁাকড়িয়া রয় পুষ্পলগ্ন ভ্রমরের মতো । এই তো ছুটির কাল— সর্বদেহমন হতে ছিন্ন হল অভ্যাসের জাল, নগ্ন চিত্ত মগ্ন হল সমস্তের মাঝে । মনে ভাবি পুরানোর দুর্গদ্বারে মৃত্যু যেন খুলে দিল চাবি, নূতন বাহিরি এল ; তুচ্ছতার জীর্ণ উত্তরীয় ঘুচালে সে ; অস্তিত্বের পূর্ণ মূল্যে কী অভাবনীয় প্রকাশিল তার স্পর্শে, রজনীর মৌন স্থবিপুল প্রভাতের গানে সে মিশায়ে দিল ; কালো তার চুল পশ্চিমদিগন্তপারে নামহীন বননীলিমায় বিস্তারিল রহস্য নিবিড় । আজি মুক্তিমন্ত্র গায় আমার বক্ষের মাঝে দূরের পথিকচিত্ত মম, সংসারধাত্রার প্রাস্তে সহমরণের বধূ-সম। ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪