পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ ২৯৭ ভূত্যের প্রবেশ ভৃত্য। সাহেববাড়ি হতে এই কাপড় এয়েছে। মন্মথ। নিয়ে যা কাপড়, নিয়ে যা। এখনি নিয়ে যা । বিধুর প্রতি দেখো, সতীশকে যদি আমি এ কাপড় পরতে দেখি তবে তাকে বাড়িতে থাকতে দেব না, মেসে পাঠিয়ে দেব, সেখানে সে আপন ইচ্ছামত চলতে পারবে। দ্রুত প্রস্থান শশধর । অবাক কাণ্ড । বিধু। (সরোদনে ) রায়মশায়, তোমাকে কী বলব, আমার বেঁচে সুখ নেই। নিজের ছেলের উপর বাপের এমন ব্যবহার কেউ কোথাও দেখেছে ? শশধর । আমার প্রতি ব্যবহারটাও তো ঠিক ভালো হল না। বোধ হয় মন্মথর হজমের গোল হয়েছে। আমার পরামর্শ শোনো, তুমি ওকে রোজ সেই একই ভালভাত খাইয়ে না। ও যতই বলুক-না কেন, মাঝে মাঝে মসলাওয়াল রান্না না হলে মুখে রোচে না, হজমও হয় না। কিছুদিন ওকে ভালো করে খাওয়াও দেখি, তার পরে তুমি যা বলবে ও তাই শুনবে। এ সম্বন্ধে তোমার দিদি তোমার চেয়ে ভালো বোঝেন । শশধরের প্রস্থান। বিধুমুখীর ক্ৰন্দন বিধবা জা । ( ঘরে প্রবেশ করিয়া, আত্মগত ) কখনো কান্না, কখনো হাসি— কত রকম যে সোহাগ তার ঠিক নেই– বেশ আছে। দীর্ঘনিশ্বাস ও মেজবউ, গোসাঘরে বসেছিস । ঠাকুরপোকে ডেকে দিই, মানভঞ্জনের পালা হয়ে যাক । অষ্টম পরিচ্ছেদ নলিনী। সতীশ, আমি তোমাকে কেন ডেকে পাঠিয়েছি বলি, রাগ কোরো না। সতীশ । তুমি ডেকেছ বলে রাগ করব, আমার মেজাজ কি এতই বদ । নলিনী। না, ও-সব কথা থাকৃ। সকল সময়েই নদী-সাহেবের চেলাগিরি