পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী به ساد কারণ খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ সভায় কৈশিকাকর্ষণ, মাধ্যাকর্ষণ, চুম্বকাকর্ষণ প্রভৃতি কোনে আকর্ষণের বালাই নেই। বিপিন । কে বললে নেই। পর্দার আড়ালে আছে । ঐশ আর-একটু খোলসা করে বলে । তোমার বুদ্ধির দৌড়টা কিরকম শুনি । বিপিন। পূর্ণ এ সভার সভ্য হবার পর থেকে আমি লক্ষ্য করে দেখেছি যে তার দুটি চক্ষু সর্বদা ওই দরজার দিকের পর্দাটার রহস্যভেদ করবার জন্যই নিবিষ্ট । কারণ খুজতে গিয়ে দেখি পর্দার নীচের ফাক দিয়ে দুখানি চরণ দেখা যাচ্ছে। দেখেই বোঝা গেল, সেই চরণের দিকে যার মন বিচরণ করে কুমার-ব্রত রক্ষা করতে গিয়ে সে বিব্রত হবে। শ্ৰীশ । সেই চরণযুগলের চরম তত্ত্বটা ধরতে পারলে ? যাকে একটু করে জানলে মন উতলা হয় অনেক সময় তাকে সম্পূর্ণ জানলে মন শাস্তি পায়। চরণ দুটি কার শুনি । বিপিন। তবে ইতিহাসটা বলি শোনে। জানই তো, পূর্ণ সন্ধ্যাবেলায় চন্দ্রবাবুর কাছে পড়ার নোট নিতে যায়। সেদিন আমি আর পূর্ণ একসঙ্গেই একটু সকাল সকাল চন্দ্রবাবুর বাসায় এসেছিলেম। তিনি একটা মিটিং থেকে সবে এসেছেন। বেহার কেরোসিন জেলে দিয়ে গেছে, পূর্ণ বইয়ের পাত ওন্টাচ্ছে, এমন সময়— কী আর বলব ভাই, সে যেন বঙ্কিমবাবুর কোন এক অলিখিত নভেলের ভিতর থেকে বেরিয়ে এল এক কন্তে, পিঠে দুলছে বেণী— শ্ৰীশ । বল কী, বল কী বিপিন । বিপিন। শোনোই-না । এক হাতে থালায় করে চন্দ্রবাবুর জন্যে জলখাবার, আরএক হাতে জলের গ্লাস নিয়ে হঠাৎ ঘরের মধ্যে এসে উপস্থিত । আমাদের দেখেই তো কুষ্ঠিত, সচকিত, লজ্জায় মুখ রক্তিমবর্ণ। হাত জোড়া, মাথায় কাপড় দেবার জে নেই। তাড়াতাড়ি টেবিলের উপর খাবার রেখেই ছুট। পূর্ণর মুখ দেখেই বোঝা গেল, তার মনটা দোদুল্যমান বেণীর পিছন পিছন ছুটেছে। ব্রাহ্ম বটে, কিন্তু তেত্রিশ কোটির সঙ্গে লজ্জাকে বিসর্জন দেয় নি এবং সত্য বলছি শ্ৰীকেও রক্ষা করেছে। শ্ৰীশ। বল কী বিপিন, দেখতে ভালো বুঝি। বিপিন। দিব্যি দেখতে । হঠাৎ যেন বিদ্যুতের মতো এসে পড়ে পড়াশুনোয় বজ্রাঘাত করে গেল । শ্ৰীশ । আহা, কই, আমি তো একদিনও দেখি নি। মেয়েটি কে হে। বিপিন। আমাদের সভাপতির ভাগ্নি, নাম নির্মলা ।