পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা २०१ শৈলবালার গলায় পরাইয়া ) আমরা দুই স্বয়ম্বর তোমাকে আমাদের পতিরূপে বরণ করলুম। শৈলবালাকে প্রণাম করিল শৈলবালা। ও আবার কী । নীরবালা । ভয় নেই ভাই, আমরা দুই সতিনে তোমাকে নিয়ে ঝগড়া করব না। যদি করি সেজদিদি আমার সঙ্গে পারবে না— আমি একলাই মিটিয়ে নিতে পারব, তোমাকে কষ্ট পেতে হবে না। না, সত্যি বলছি মেজদিদি, তোমার কাছে আমরা যেমন আদরে আছি এমন আদর কি আর কোথাও পাব। কেন তবে আমাদের পরের গলায় দিতে চাস । - নৃপর দুই চক্ষু বাহিয়। ঝর বার করিয়া জল পড়িতে লাগিল শৈলবালা। (তাহার চোখ মুছিয়া দিয়া ) ও কী ও নৃপ, ছি। তোদের কিসে স্থখ তা কি তোরা জানিস। আমাকে নিয়ে যদি তোদের জীবন সার্থক হত তা হলে কি আমি আর-কারও হাতে তোদের দিতে পারতুম। রসিকের প্রবেশ রসিক। ভাই, আমার মতো অসভ্যটাকে তোরা সভ্য করলি— আজ তো সভা এখানে বসবে, কিরকম করে চলব শিখিয়ে দে । নীরবালা। ফের পুরোনো ঠাট্টা ? তোমার ওই সভ্য-অসভ্যুর কথাটা এই পরশু থেকে বলছ । রসিক। যাকে জন্ম দেওয়া যায় তার প্রতি মমতা হয় না ? ঠাট্ট একবার মুখ থেকে বের হলেই কি রাজপুতের কন্যার মতো তাকে গলা টিপে মেরে ফেলতে হবে। হয়েছে । কী, যতদিন চিরকুমার-সভা টিকে থাকবে এই ঠাট্টা তোদের দু বেলা শুনতে হবে। নীরবালা। তবে ওটাকে তো একটু সকাল সকাল সেরে ফেলতে হচ্ছে। মেজদিদি ভাই, আর দয়ামায়া নয়— রসিকদাদার রসিকতাকে পুরোনো হতে দেব না, চিরকুমারসভার চিরত্ব আমরা অচিরে ঘুচিয়ে দেব। তবেই তো আমাদের বিশ্ববিজয়িনী নারী নাম সার্থক হবে। কিরকম করে আক্রমণ করতে হবে একটা কিছু প্ল্যান ঠাউরেছিল ? i - শৈলবালা । কিছুই না । ক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে যখন যে রকম মাথায় আসে। নীরবালা । আমাকে যখন দরকার হবে রণভেরী ধ্বনিত করলেই আমি হাজির হব। ‘আমি কি ডরাই সখী কুমারসভারে। নাহি কি বল এ ভুজমৃণালে ?