পাতা:রাজমোহনের স্ত্রী.djvu/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজমোহনের স্ত্রী رمان মল্লিকার কলি পথিকার নেত্রমোদন করিতেছিল। পূৰ্ব্বতন পদ্ধতিমত চতুষ্কোণ ও অণ্ডাকার বহুতর চানকার মধ্যে পরিষ্কার ইষ্টকচুৰ্ণপথ স্বরচিত ছিল । উদ্যানমধ্যে একটি পুষ্করিণী । তাহার তীর কোমল তৃণাবলিতে সুসজ্জিত ; একদিকে ইষ্টকনিৰ্ম্মিত সোপানাবলী। ঘাটের সম্মুখে বৈঠকখানা । বৈঠকখানার বারাণ্ডায় দাড়াইয়া দুই ব্যক্তি কথোপকথন করিতেছিল । “বয়োধিক যে ব্যক্তি, তাহার বয়স ত্রিশ বৎসরের উদ্ধ হইবে ; দীর্ঘ শরীর, স্থলাকার পুরুষ। অতি স্থূলকায় বলিয়াই সুগঠন বলা যাইতে পারিল না। বর্ণ কঠোর শ্রাম ; কান্তি কোনও অংশে এমত নহে যে, সেব্যক্তিকে স্বপুরুষ বলা যাইতে পারে ; বরং মুখে কিছু অমধুরতা ব্যক্ত ছিল । বস্তুতঃ সে মুখাবয়ব অপর সাধারণের মুখাবয়ব নহে ; কিন্তু তাহার বিশেষত্ব কি যে, তাহাও হঠাৎ নিশ্চয় করা দুর্ঘট । কটিদেশে ঢাকাই ধুতি, লম্বা লম্বা পাকান ঢাকাই চাদরে মাথায় পাগড়ি বাধা। পাগড়িটির দৌরাত্ম্যে, যে দুই একগাছি চুল মাথায় ছিল, তাহাও দেখিতে পাওয়া ভার। ঢাকাই মলমলের পিরহাণ গাত্রে ;–সুতরাং তদভ্যস্তরে অন্ধকারময় অসীম দেহখানি বেশ দেখা যাইতেছিল —আর সঙ্গে সঙ্গে সোনার কবচখানিও উকি ঝুকি মারিতেছিল। কিন্তু গলদেশে যে হেলেহার মন্দরপৰ্ব্বতে বাসুকীর ন্যায় বিরাজ করিতেছিল, সে একেবারে পিরহণের বাহিরে আসিয়া দাড়াইয়াছিল । পিরহণে সোনার বোতাম, তাহাতে চেন লাগান ; প্রায় সকল আঙ্গুলেই অঙ্গুরীয় ; হস্তে যমদণ্ডতুল্য পিচের লাঠি । বামনদেবের পাদপদ্মতুল্য দুইখানি পায়ে ইংরাজী জুতা। “ইহার সমভিব্যাহারী পরম সুন্দর, বয়স অনুমান বাইশ বৎসর । র্তাহার সুবিমল স্নিগ্ধ বর্ণ, শারীরিক ব্যায়ামের অসদ্ভাবেই হউক, বা ঐহিক সুখসম্ভোগেই হউক, ঈষৎ বিবর্ণ হইয়াছিল। র্তাহার পরিচ্ছদ অনতিমূল্যবান, একখানি ধুতি, অতি পরিপাটী একখানি চাদর, একটি