পাতা:রাধারাণী-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


bre রজনী ষে দিন রজনী শচীন্দ্রকে দেখিয়া আসিয়াছিল, সেই দিন অপরাহ্লে আমি রজনীকে এই কথা বলিতে গেলাম। গিয়া দেখিলাম যে, রজনী এক বসিয়া কাদিতেছে। আমি তখন তাঙ্গকে কিছু না বলিয়া, রজনীর মাসীকে জিজ্ঞাসা করিলাম যে, রজনী কাদিতেছে কেন ? তাহার মাসী বলিল যে, কি জানি ? মিত্রদিগের বাড়ী হইতে আসিয়া অবধি রজনী কঁাদিতেছে। আমি স্বয়ং শচীন্দ্রের নিকট যাই নাই—আমার প্রতি শচীন্দ্র বিরক্ত, যদি আমাকে দেখিয় তাহার পীড়াবৃদ্ধি হয়, এই আশঙ্কায় যাই নাই—সুতরাং সেখানে কি হইয়াছিল, তাহ জানিতাম না। রজনীকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “কেন কাদিতেছ?” রজনী চক্ষু মুছিয়া চুপ করিয়া রহিল। আমি বড় কাতর হইলাম। বলিলাম, “দেখ রজনি, তোমার যাহা কিছু দুঃখ, তাহা জানিতে পারিলে আমি প্রাণপাত করিয়া তাহ নিবারণ করিব—তুমি কি দুঃখে কাদিতেছ, আমায় বলিবে না ?” . রঞ্জনী আবার কাদিতে আরম্ভ করিল। বহু কষ্টে আবার রোদন সম্বরণ করিয়া বলিল, “আপনি এত অনুগ্রহ করেন, কিন্তু আমি তাহার যোগ্য নহি ।” . আমি । সে কি রক্সনি ? আমি মনে জানি, আমিই তোমার যোগ্য নহি । আমি তোমাকে সেই কথাই বলিতে আসিয়াছি। রজনী। আমি আপনার অমুগৃহীত দাসী, আমাকে অমন কথা কেন বলেন ? আমি । শুন রজনি। আমি তোমাকে বিবাহ করিয়া, ইহজন্ম সুখে কাটাইব, এই আমার একান্ত ভরসা। এ আশা আমার ভগ্ন হইলে, বুঝি আমি মরিব । কিন্তু সে আশাতেও যে বিঘ্ন, তাহা তোমাকে বলিতে আসিয়াছি। শুনিয়া উত্তর দিও, না শুনিয়া উত্তর দিও না। প্রথমযৌবনে একদিন আমি রূপান্ধ হইয়া উন্মত্ত হইয়াছিলাম—জ্ঞান হারাইয়া চোরের কাজ করিয়াছিলাম। অঙ্গে আজিও তাহার চিহ্ন আছে। সেই কথা তোমাকে বলিতে আসিয়াছি । তখন ধীরে ধীরে, নিতান্ত ধৈর্য্যমাত্র সহায় করিয়া, সেই অকথনীয়া কথা রজনীকে বলিলাম। রজনী অন্ধ, তাই বলিতে পারিলাম। চক্ষে চক্ষে সন্দর্শন হইলে বলিতে পারিতাম না । রজনী নীরব হইয়া রহিল। আমি তখন বলিলাম, “রজনি! কপোল্মদে উন্মত্ত হইয়। প্ৰথমযৌবনে একদিন এই অজ্ঞানের কার্য্য করিয়াছিলাম। আর কখন কোন অপরাধ করি নাই । চিরজীবন সেই একদিনের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করিয়াছি। আমাকে কি তুমি গ্রহণ করিবে ?”