পাতা:রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

রূপসী বোম্বেটে

২১

 বলরুমে প্রবেশ করিয়া রাইমার পুনর্ব্বার সেই স্তম্ভের পাশে দণ্ডায়মান হইল, কিন্তু তাহার দৃষ্টি সেই যুবতীর দিকে; রাইমার বুঝিতে পারিল, যুবতী কোনও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কন্যা বা ভগিনী হইবে; সাধারণ গৃহস্থের গৃহে এমন রূপ দেখা যায় না, এমন বেশভূষাও সম্ভব নহে। নিমন্ত্রিত সম্রান্ত যুবকগণ দলে দলে যুবতীর চারি পাশে লুব্ধ মধুপের ন্যায় গুঞ্জন করিতে লাগিল। প্রত্যেকের আশ-যুবতী তাহাকে লইয়া নাচিবেন, তাহার জীবন ধন্য হইবে।

 নাচ চলিতে লাগিল, যুবতী কোনও যুবকের সহিত নাচিতে সম্মত হইলেন না, একপাশে দাঁড়াইয়া নাচ দেখিতে লাগিলেন। ক্রমে একদফা নাচ হইয়া গেল; জলযোগের ঘণ্টা পড়িল। পরিশ্রান্ত নর্ত্তক-নর্ত্তকীগণ পানাহারের জন্য কক্ষান্তরে প্রবেশ করিলেন।

 পানাহারের পর আবার ঘণ্টা পড়িল। পানাহারের পর সকলে বলরুমে প্রবেশ করিলেন। কিন্তু হঠাৎ একটা গণ্ডগোল বাধিল, পুনর্ব্বার নৃত্য আরম্ভ হইবার পূর্ব্বে একজন উচ্চপদস্থ প্রৌঢ় রাজকর্মচারী বলরুমে প্রবেশ করিয়া গম্ভীর স্বরে বলিলেন, “ভদ্র মহোদয়া ও মহোদয়গণ! আমাকে দুঃখের সহিত প্রকাশ করিতে হইতেছে, আমাদের মহাসম্মানিত ষ্টেট্‌ সেক্রেটারী মহাশয়ের পত্নী সিনোরা এল্‌ফ্রেডা হঠাৎ তাঁহার মহামূল্য হীরকহার হারাইয়া ফেলিয়াছেন। আপনারা সকলেই অবগত আছেন, পাঁচ বৎসর পূর্ব্বে রাষ্ট্রবিপ্লবের সময় সিনোরা এই রাজ্যের আহত সৈনিকগণের শুশ্রুষা করায় এই রাজ্যের অধিবাসীগণ বহু সহস্র মুদ্রা চাঁদা তুলিয়া সিনোরার গুণের পুরস্কার স্বরূপ তাঁহাকে এই হীরক-হার উপহার প্রদান করিয়াছিলেন।”

 নৃত্য অরম্ভ হইবে কি,এই সংবাদে নিমন্ত্রিত নরুনারীগণ সকলেই সবিস্ময়ে পরস্পরের মুখ চাহিতে লাগিলেন, কেহ কোনও কথা বলিতে