পাতা:লঘুগুরু প্রবন্ধাবলী - রাজশেখর বসু.pdf/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

সাধু ও চলিত ভাষা। প্রকার এক হ'লেও ভঙ্গী(style)র ভেদও ভাষা, যথা—আলালী, বিদ্যাসাগরী বা বঙ্কিমী ভাষা। | আলালী আর বঙ্কিমী ভাষা যতই ভিন্ন হােক, দুইটিই যে সাধুভাষা তাতে সন্দেহ নেই। ভেদ যা আছে তা প্রকারের নয়, ভঙ্গীর। হুতােম প্যাচার নকশা আর রবীন্দ্রনাথের লিপিকার ভাষায় আকাশ-পাতাল ব্যবধান, কিন্তু দুটিই চলিতভাষায় লেখা; প্রকার এক, ভঙ্গী ভিন্ন। আজকাল সাধু ও চলিত ভাষায় যে সাহিত্য রচনা হচ্ছে তার লক্ষণাবলী তুলনা করলে এইসকল ভেদাভেদ দেখা যায় ? (১) দুই ভাষার প্রকারভেদ প্রধানত সর্বনাম আর ক্রিয়ার রূপের জন্য। তাহারা বলিলেন, তারা বললেন। (২) সাধুভাষার কয়েকটি সর্বনাম কালক্রমে পশ্চিমবঙ্গীয় মৌখিক রূপের কাছাকাছি এসে পড়েছে। রামমােহন রায় লিখতেন তাহারদিগের’, তাথেকে ক্রমে তাহাদিগের, তাহাদের হয়েছে। এখন অনেকে সাধুভাষাতেও ‘তাদের’ : লিখছেন। ক্রিয়াপদেও মৌখিকের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। লিখা, শিখা, শুনা, ঘুরা’ স্থানে অনেকে সাধুভাষাতেও লেখা, শেখা, শােনা ঘােরা লিখছেন। (৩) সর্বনাম আর ক্রিয়াপদ ছাড়াও কতকগুলি অসংস্কৃত ও সংস্কৃত শব্দে পার্থক্য দেখা যায়। সাধুতে উঠান, উনান, মিছা, কুয়া, সুতা, চলিতে ‘উঠন, উনন, মিছে, কুয়াে, সুতাে'। কিন্তু এইরকম বহু শব্দের চলিত রূপই এখন সাধুভাষায় স্থান