পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মিটাইবার জষ্ঠ, কথা কহিবার জষ্ঠ, খাওয়াইবার জন্য ভিতরে ভিতরে ছট্‌ফট্‌ করিয়া একদিন আস্তে আস্তে কাছে আসিয়া বসিতেন । শেষে, হাতে-পায়ে পড়িয়া কাদিয়াকাটিয়া, ঘাট মানিয়া, বড়জাকে নিজের ঘরে ধরিয়া আনিয়া ভাব করিতেন। এমনি করিয়া দুই জায়ের অনেকদিন কাটিয়াছে । আজ বেলা তিনটা সাড়ে-তিনটার সময় হেমাঙ্গিনী এ-বাড়িতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। কুপের পার্থে সিমেন্ট-বাধান বেদীর উপর রোদে বসিয়া কেষ্ট সাবান দিয়া একরাশ কাপড় পরিষ্কার করিতেছিল ; কাদঙ্গিনী দূরে দাড়াইয়া, অল্প সাবান ও অধিক গায়ের জোরে কাপড় কাচিবার কৌশলটা শিখাইয়া দিতেছিলেন । মেজ-জাকে দেখিবামাত্রই বলিয়া উঠিলেন, মাগো, -ছোড়াটা কি নোংরা কাপড়-চোপড় নিয়েই এসেচে ! কথাটা সত্য। কেষ্টর সেই লাল পেড়ে ধূতিটা পরিয়া এবং চাদরটা গায়ে দিয়া কেহ কুটুমবাড়ি যায় না । দুটোকে পরিষ্কার করার আবশ্বকতা ছিল বটে, কিন্তু রজকের অভাবে ঢের বেশী আবখক হইয়াছিল পুত্ৰ পাচুগোপালের জোড়া-দুই এবং তাহার পিতার জোড়া-দুই পরিষ্কার করিবার। কেষ্ট আপাততঃ তাহাই করিতেছিল । হেমাঙ্গিনী চাহিয়াই টের পাইলেন বস্ত্রগুলি কাহাদের । কিন্তু সে উল্লেখ না করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ছেলেটি কে দিদি ? ইতিপূৰ্ব্বে নিজের ঘরে বসিয়া আড়ি পাতিয়া তিনি সমস্তই অবগত হইয়াছিলেন । দিদি ইতস্ততঃ করিতেছেন দেখিয়া পুনরায় কহিলেন, দিব্যি ছেলেটি ত ! মুখের ভাব তোমার মতষ্ট দিদি। বলি বাপের বাড়ির কেউ না কি ? কাদম্বিনী বিরক্ত-মুখে জবাব দিলেন, স্থ, আমার বৈমাত্র ভাই । ওরে, ও কেষ্ট, তোর মেজদিদিকে একটা প্রণাম কর না রে! কি অসভ্য ছেলে বাবা! গুরুজনকে একটা নমস্কার করতে হয়, তাও কি তোর মা মাগী শিখিয়ে দিয়ে মরেনি রে ? কেষ্ট থতমত খাইয়া উঠিয়া আসিয়া কাদম্বিনীর পায়ের কাছেই নমস্কার করাতে তিনি ধমকাইয়া উঠিলেন, আ মর, হাবা কালা নাকি ! কাকে প্রণাম করতে বললুম, কাকে এসে করলে ! বস্তুতঃ আসিয়া অবধি তিরস্কার ও অপমানের অবিশ্রাম আধাতে তাহার মাথা বে-ঠিক হইয়া গিয়াছিল। কথার কাজে ব্যস্ত ও হতবুদ্ধি হইয়া হেমাঙ্গিনীর পায়ের কাছে সরিয়া আসিয়া শির অবনত করিতেই তিনি হাত দিয়া ধরিয়া ফেলিয়া তাহার চিবুক স্পর্শ করিয়া আশীৰ্ব্বাদ করিলেন, থাক থাক, হয়েচে ভাই - চিরজীবী হও ! কেষ্ট মূঢ়ের মত র্তাহার মুখের পানে চাহিয়া রহিল। এ-দেশে এমন করিয়া যে কেহ কথা বলিতে পারে, ইহা তাহার মাথায় ঢুকিল না। তাহার সেই কুষ্ঠিত ভীত অসহায় মুখখানির পানে চাহিবামা হেমাঙ্গিনীর বুকের ভিতরটা যেন মুচড়াইয়া কাদিয়া উঠিল। নিজেকে আর সামলাইতে না পারিয়া, ইe৮