পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাহাই হইয়ছিল। প্রথমে কিছু কিছু পাইয়াছিলেন, কিন্তু যত দিন যাইতে লাগিল, অদৃষ্টও তেমনি গুটাইয়া আসিতে লাগিল। শুভদকে সেই পাঁচ টাকা দেওয়াই তাহার শেষ দেওয়া হইল । তাহার পর যে একেবারে কিছুই পান নাই তাহা নহে। কখন কিছু কিছু পাইয়াছিলেন, কিন্তু তখন তায় অপেক্ষা ব্যায় ভাগটাই অধিক, হইয়া পড়িয়াছিল। পূৰ্ব্বে তিনি হলুদপুরে তিষ্ঠিতে পারিতেন না। এখন আবার বামুনপাড়ায় তিষ্ঠানও বিপজ্জনক হইয়া দাড়াইয়াছে। পথিমধ্যে যে কাহারও সহিত সাক্ষাৎ হয় সে-ই কিছু না কিছুর জন্য দাবী করিয়া বসে । দুই পয়সা চারি পয়সা, দুই অনা চলি আনা, এমন প্রত্যেক পরিচিত লোকের নিকটই তাহার ‘কাল দিব’ বলিয়া কৰ্জ করা আছে ; প্রতি দোকানদারের তাহার নিকট চারি আন আট আনা পাওনা আছে। এই সকল কারণে বামুনপাড়ায় তাহাকে সচরাচর আর দেখিতে পাওয়া যায় না ; তবে সন্ধ্যার সময় গুলির দোকানটা অনুসন্ধান করিলে একপার্থে তাহাকে পাওয়া যাইতে পারে ; একটু অধিক রাত্রি হইলে জুয়ার আড্ডাঘরের বীপ খুলিয়া প্রবেশ করিতে মধ্যে মধ্যে র্তাহাকে দেখিতে পাওয়া যায়। আজকাল অধিক রাত্রিই তাহার এইখানে অতিবাহিত হয়। পয়সা নাই বলিয়া নিজে খেলিতে পারেন না, কিন্তু পরের খেলায় বাজি মারিয়া মধ্যে মধ্যে দুই-চারিটি পয়সা লাভ করেন । খেলিতে বসিয়া কেহ উঠিতে চাহে না, হারাণচন্দ্র সে সময়ে তামাক সাজিয়া সরবরাহ করেন, বিজেতার পক্ষ টানিয়া দুটো কথা কহিয়া, দুটো রসিকতা করিয়া, হাতে পৈতা জড়াইয়া দু’বার দুর্গানাম জপ করিয়া জয়ী পক্ষের মন রাখিয়া, মোতাতের যোগাড়টা করিয়া লন। যেদিন কিছু অধিক আদায় হয় সেদিন নিজেই দু’হাত খেলিতে বসেন। হয় কিছু পান, না হয় লাভের অংশ পিপীলিকায় ভক্ষণ করিয়া ফেলে। দুই-চারি আনা হাতে হইলে সেদিন আর র্তাহাকে পায় কে ? গুলির দোকানে আসিয়া সাবেকি চালে মুরুব্বির আসন গ্রহণ করেন, অনেককে রাজ উজির প্রভৃতি উচ্চ পদাভিষিক্ত করিয়া শুভদার মুখখানা মনে করিতে করিতে বাটী আসিয়া উপস্থিত হন । এখানে অন্ন আছেই। শুভদার জমিদারি কখন ফুরাইবে না ; তাহার মূৰ্ত্তিমতী অন্নপূর্ণ শুভদা কখনও রিক্তহস্ত হইবে না। কাহারও না থাকুক, তাহার একমুঠা অন্ন আছেই। কিন্তু বাটী আসিবার সময় র্তাহার একটু মুস্কিল হয় ; যেন একটু লজ্জা লজ্জা বোধ হয়, বাটীর নিকটবৰ্ত্তী হইয়। পা যেন আর তেমন করিয়া চলিতে চাহে না । অবশেষে বাটীর ভিতর প্রবেশ করিয়া আপনাকে আরও একটু বিব্রত বোধ করিতে হয়। শুভদ যেরূপভাবে পা ধুইবার জল লইয়া আসে, যেরূপভাবে পা মুছইয়া দিতে আসে, যেরূপ শুল্কমুখে ভাতের থালাটি সম্মুখে ধরিয়া মৌন হইয়া নিতান্ত অবসন্নভাবে বসিয়া থাকে, তাহাতে হারাণচন্দ্রের মনটাও কেমন কেমন করিতে থাকে, ভাতের গ্রাসগুলো 8b