পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/১৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সে ভাবিয়া আসিয়াছিল কুমারের লুন্ধতায় তাহার অহেতুক ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা তুলিয়া প্রচলিত শিষ্টবাক্যে পুত্রের জন্য সঙ্কোচ প্রকাশ করিবে এবং করিতেও যাইতেছিল, কিন্তু বাধা পড়িল । কুমার বলিল, মাসীমা, কালকের মত চন্দ্রপুলি করতে আজও যে তোমাকে বলেছিলুম, কয়োনি কেন ? মাসীমা কহিল, অন্যায় হয়ে গেছে বাবা, সাবধান হইনি। সমস্ত দুধ বেড়ালে উন্টে ফেলে দিয়েচে–কাল আর এমন হবে না । কোন বিড়ালটা বল ত ? শাদাটা ? সেইটেই বোধ হয়, বলিয়া অল্পরাধা হতে দিয়া তাহার মাথার এলো-মেলো চুলগুলি সোজা করিয়া দিতে লাগিল । বিজয় কহিল, উৎপাত ত দেখচি ক্রমশ: জুলুমে গিয়ে ঠেকেচে । কুমার বলিল, খাবার জল কৈ ! ঐ যা:–ভুলে গেচি বাবা, এনে দিচ্চি । তুমি সবই ভুলে যাও মসিীমা । তোমার কিছু মনে থাকে না । বিজয় বলিল, আপনার বকুনি খাওয়াই উচিত। ক্রাট পদে পদে । ই, বলিয়া অনুরাধ৷ হাসিয়া ফেলিল । অসতর্কতাবশতঃ এ হাসি বিজয়ের চোখে পড়িল । পুত্রের অবৈধ আচরণে ক্ষমা ভিক্ষা করা আর হইল না, পাছে তাহার ভদ্রবাক্য অভদ্র বাঙ্গের মত শুনায়, পাছে এই মেয়েটির মনে হয় তাহার দৈন্ত ও দুর্দশাকে সে কটাক্ষ করিতেছে । পরদিন দুপুরবেল অনুরাধা কুমার ও সন্তোষকে ভাত বাড়িয়া দিয়া তরকারি পরিবেশন করিতেছে, তাহার মাথায় কাপড় খোলা, গায়ের বস্ত্র অসংবৃত, অকস্মাৎ দ্বারপ্রাস্তে মানুষের ছায়া পড়িতে অঙ্গরাধা ফিরিয়া চাহিয়া দেখিল, ছোটবাবু। শশবাস্তে মাথায় আঁচল তুলিয়া দিয়া উঠিয়া দাড়াইল । বিজয় বলিল, একটা অত্যস্ত জরুরি পরামর্শের জন্য আপনার কাছে এলুম। বিনোদ ঘোষ গ্রামের লোক, অনেকদিন দেখেচেন, ও কি-রকম লোক বলতে পারেন। ওকে গণেশপুরের নতুন গোমস্ত বহাল করেচি, সম্পূর্ণ বিশ্বাস করা যায় কি না- আপনার কি মনে হয় ? বিনোদ এক সপ্তাহের অধিক কাজ করিতেছে, যথাসাধ্য ভালো কাজই করিতেছে, কোন গোলযোগ ঘটায় নাই। সহসা হস্তদন্ত হইয়া তাহার চরিত্রের খোজ-তল্পাস করিবার እግ�