পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় অল্প-শিক্ষিত রমণীবাবু নয়—উভয়ের বিস্তর প্রভেদ-এ হয়তো জাপমানের পরিবর্তে একটা কথা বলিবে না, হয়তো শুধু অবজ্ঞার চাপা হাসি ওষ্ঠাধরে লইয়া বিনয়-নম্র নমস্কারে ক্ষমা-ভিক্ষা চাহিয়া নিঃশব্দে প্রস্থান করিবে । মিনিট দুই-তিন নীরবে কাটিল, বিমলবাবু বলিলেন, কৈ জবাব দিলেন না আমার ? সবিতা মুখ তুলিয়া কহিলেন, কি জিজ্ঞেস করেছিলেন আমার মনে নেই । এমনি অন্তমনস্ক অাজ ? কিন্তু ইহারও উত্তর না পাইয়া বলিলেন, আমি বলছিলাম আপনি সত্যিই ভালো নেই। কি হয়েচে জানতে পাইনে ? না । আমাকে না বলুন ডাক্তারকে তো স্বচ্ছন্দে বলতে পারেন। না, তাও পারিনে । এ কিন্তু আপনার বড় অন্যায়। কারণ, যে দোষী সে পাচ্ছে না দও, পাচ্ছে যে মাহুষ সম্পূর্ণ নির্দোষ । এ অভিযোগের উত্তর আসিল না। বিমলবাবু বলিতে লাগিলেন, কাল যা দেখে গেছি, আজ তার চেয়ে আপনি ঢের বেশি খারাপ। হয়তো আবার জবাব দেবেন আমার দেখার ভুল হয়েচে, হয়তো বলবেন নিজের চোখকে অবিশ্বাস করতে, কিন্তু একটা কাজ আজ বলবো আপনাকে । গ্রহ-চক্র শিশুকাল থেকে অনেক ঘুরিয়েচে আমাকে, এ দুটাে চোখ দিয়ে অনেক কিছুই সংসারের দেখতে হয়েচে, বিশেষ ভুল তাদের হয়নি—হলে মাঝ-নদীতেই অদৃষ্ট-তরী ডুব মারতো, কুলে এসে ভিড়তো না। আমার সেই দুটো চোখ আজ হলফ করে জানাচ্ছে আপনি ভালো নেই—তবু কিছুই করতে পাবো না—মুখ বুজে চলে যাবো–এ যে সহ করা কঠিন । আবার দুজনের চোখে চোখে মিলিল এবার সবিতা দৃষ্টি আনত করিলেন না, শুধু চুপ করিয়া বসিয়া রছিলেন। সম্মুখে তেমনি নীরবে বসিয়া বিমলবাবু। র্তাহার লালসা-দীপ্ত চোখে উদ্বেগের সীমা নাই— নিষেধ মানিতে চাহে না—ডাক্তার ডাকিতে ছুটিতে চায়। আর সেখানে ? অর্থ নাই, লোক নাই, অজানা কোন একটা গৃহের মধ্যে পড়িয়া সস্তান তাহার রোগশয্যায়। নিরুপায় মাতৃ-হৃদয় গভীর অন্তরে হাহাকার করিয়া উঠিল। শুধু অব্যক্ত বেদনায় নয়, লঙ্গায় ও দুঃসহ অন্থশোচনায় । কিছুতেই আর তিনি বসিয়া থাকিতে পারিলেন না, উগত অঙ্গ কোন মতে সংবরণ করিয়া দ্রুত উঠিয়া পড়িলেন, কহিলেন, আর জামাকে কষ্ট দেবেন না বিমলবাবু, আমার কিছুই চাইনে, আমি ভাল আছি। বলিয়াই একটা নমস্কাৰ করিয়া চলিয়া গেলেন। বিমলবাবু বিস্ময়াপন্ন হইলেন, কিন্তু রাগ করিলেন না, বুঝিলেন ইহা কঠিন মান-অভিমানের ব্যাপার—দুদিন সময় লাগিবে। ግቄ