পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৩১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দেহে প্রাণ থাকতে এমন কাজ তাকে কেউ করাতে পারবে না। তিনি যে স্বন্দরীর মুখ পৰ্য্যন্ত দেখতেন না ! নীলাম্বর শান্তভাবে বলিল, তাও শুনেচি। হয় ত তোমার কথাই সত্যি মা, দেহে তার প্রাণ ছিল না। ভাল ক’রে জ্ঞান-বুদ্ধি হ’বার পূৰ্ব্বেই সেটা সে আমাকে দিয়েছিল, সে ত নিয়ে যায়নি, আজও তা আমার কাছে আছে, বলিয়া সে চোখ বুজিয়া তাহার হৃদয়ের অন্তরতম স্থান পৰ্য্যস্ত তলাইয়া দেখিতে লাগিল । ছোটবেী মুগ্ধ হইয়া সেই শাস্ত, পাণ্ডুর, নিমীলিত মুখের পানে চাহিয়া রহিল। সে-মুখে ক্রোধ বা হিংসা-দ্বেষের এতটুকু ছায়া নাই—আছে শুধু অপরিসীম ব্যথা ও অনন্ত ক্ষমার অনিৰ্ব্বচনীয় মহিমা । সে গলায় আঁচল দিয়া প্রণাম করিয়া মনে মনে তাহার পদধূলি মাথায় লইয়া নিঃশবে উঠিয়া গেল ; সন্ধ্যাদীপ জালিতে জালিতে মনে মনে বলিল, দিদি চিনেছিল, তাতেই একটি দিনও ছেড়ে থাকতে চাইত না । দীর্ঘ চার বৎসর পরে পুটি বাপের বাড়ি আসিয়াছে এবং বড় মানুষের মতই জাসিয়াছে। তাহার স্বামী, ছয় মাসের শিশু পুত্র। পাঁচ-ছয় জন দাস-দাসী এবং অগণিত জিনিসপত্রে সমস্ত বাট পরিপূর্ণ হুইয়া গেল। স্টেশনে নামিয়াই যত্ন চাকরের কাছে খবর শুনিয়া সে সেইখান হইতে কঁাদিতে শুরু করিয়াছিল । উচ্চরোলে কাদিতে কাদিতে সমস্ত পাড়া সচকিত করিয়া রাত্রি এক প্রহরের পর বাড়ি ঢুকিয়া দাদার ক্রোড়ে মুখ ভজিয়া উপুড় হইয়া পড়িল। সে রাত্রে জলস্পর্শ করিল না, দাদাকেও ছাড়িল না, এবং এই মুখ ঢাকিয়া রাখিয়াই সে একটু একটু করিয়া সমস্ত কথা শুনিল । আগে বোঁদিকে বরঞ্চ সে ভয় করিত। সঙ্কোচ করিত, কিন্তু দাদাকে ঠিক পুরুষ মানুষও মনে করিত না ! সঙ্কোচও করিত না । সমস্ত আবদার উপত্ৰব তাহার দাদার উপরেই ছিল। শ্বশুরবাড়ি যাইবার পূৰ্ব্বের দিনও সে বৌদির BBB BB BBBS BBBS BBB BB DDBBB BBBS BBBB BBBS দিয়াছিল। তাহার সেই দাদাকে যাহারা এতদিন ধরিয়া এত দুঃখ দিয়াছে, এমন জীর্ণ শীর্ণ এমন পাগলের মত করিয়া দিয়াছে, তাহাদের প্রতি তাহার ক্রোধ ও দ্বেষের পরিসীমা রহিল না ! তাহার দাদার এত বড় দুঃখের কাছে পুটি আপনার সমস্ত দুঃখকেই একেবারে তুচ্ছ করিয়া দিল। তাহার শ্বশুর কুলের উপর ঘূণা জন্মিল, ছোটদের সর্পাঘাত তাহাকে বিধিল না এবং তাঁহার দুঃখিনী বিধবা ভাতৃজায়ার দিক হইতে সে একেবারে মুখ ফিরাইয়া বসিল । ছুদিন পরে সে তাহার স্বামীকে ডাকিয়া আনিয়া বলিল, আমি দাদাকে নিয়ে পশ্চিমে বেড়াতে যাব, তুমি এই সব লট-বহর নিয়ে বাড়ি যাও। আর যদি ইচ্ছে হয়, না হয় তুমিও সঙ্গে চল। যতীন অনেক যুক্তি-তর্কের পর শেষ কাজটাই সহজসাধ্য বিবেচনা করিয়া জীর একবার জিনিষপত্র বাধা-বাধির উদ্যোগে প্রস্থান করিল যাত্রার আয়োজন డితి