পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


( ii ) গুরু অমরদাসকে যখন গুরু হিসাবে অঙ্গদ মনোনীত করে গেলেন তখন তিনি গুরু নানকের বাণী নিয়ে শিখদের মধ্যে পুনঃপ্রচারে ব্যাপৃত হলেন । তিনি অবশু শিখদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্যই সবিশেষ সচেষ্ট হলেন এবং তার বিপক্ষদের পরাস্ত করলেন। বিপক্ষ উদাসী সম্প্রদায় তার বশীভূত হল। শিখদের সংখ্যা বাড়তে থাকল। সুবিধার জন্য তিনি বাইশটি মঞ্জতে বিভক্ত করলেন । মঞ্জ হল গদি বিশেষ। প্রতিটি মঞ্জের প্রধান হলেন এক একজন ধর্মাত্মা শিখ । কিন্তু গুরুদের প্রভাব বৃদ্ধি এবং শিখদের শক্তি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি যত্নশীল হলেন প্রথম গুরু রামদাস । এজন্য তিনি কর্তারপুরে নানক প্রতিষ্ঠিত ধর্মশালা এবং অমরদাস প্রতিষ্ঠিত গোবিন্দওয়ান গ্রাম প্রতিষ্ঠার চৌহদ্দীকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেন অমৃতসর শহর স্থাপন করে । আগেই বলেছি সম্রাট আকবর র্তীকে এক পুষ্করিনী সমেত পাঁচশো বিঘা জমি প্রদান করেছিলেন মাত্র সাতশো আকবরী মুদ্রার বিনিময়ে। আকবরের মিত্রতার সঙ্গে তিনি বহু পার্বত্য সামন্ত জমিগীদারদের সঙ্গেও মিত্রতা স্থাপন করেছিলেন । লাহোরের রাজ্যপাল মির্জ জাফর বেগ এবং তার পুত্র তাহির বেগ তাঁর ভক্ত হয়ে পড়েন । এই সব সখ্যতা গুরু রামদাসের জনপ্রিয়তার পরিধি বিস্তারে এবং শিখধর্মের প্রচারে যথেষ্ট সাহায্য করল । শিখদের এই বিশিষ্ট পরিচিত শিখধর্মের তত্ত্বত: প্রতিষ্ঠা এনে দিল গুরু অজন-এর ংগঠনী শক্তির প্রভাবে । তিনিই প্রথম ‘আদিগ্রন্থ গ্রন্থসাহেব সংকলনে উদ্যোগী হন। দ্বিতীয় গুরুর সংকলিত নানক-স্মৃতিগ্রন্থ সংকলনের পর এটিই সারা শিখবিশ্বে সমাদৃত প্রধান গ্রন্থ । অজন দেবের জীবনের বৃহৎ অংশ এই মহৎ সংকলন কাজে ব্যয়িত হল । বেদ, বাইবেল রা কোরাণের সমতুল্য হল এই আদিগ্রন্থ । শুধু তাই নয় অমৃতসর সহরকে শিখদের মক্কায় পরিণত করে দিলেন গুরু অজন । নির্মিত হল অনুপম হরমন্দির । অমৃতসর হল শিখদের প্রধান কর্মক্ষেত্র। র্তার উদ্যোগেই মাঝার জাঠের শিখধর্ম গ্রহণে তৎপর হল । তরণ তারণ শহর নির্মিত হল। অজ’নদেব এবারে রাজস্ব-প্রদান নিয়ম গঠন করে একটা অঘোষিত শিখ সাম্রাজ্য গঠন করলেন। দানপ্ৰথা বিধিবদ্ধ হল । মসদ বা সমাহর্তারা নিযুক্ত হলেন এজন্তে । কুসংস্কারকে দূরীভূত করে শিখধর্মকে উদারভিত্তি প্রদান তার আধ্যাত্মিক সংস্কার সমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল। তুর্কী থেকে ঘোড়া কিনে এনে শিখদের মধ্যে সামরিক শক্তি বর্ধন করার প্রসারেও তিনি তৎপর হন । বস্তুত: পক্ষে অজ’নদেবের নেতৃত্বে শিখ জাতি অনেকখানি এগিয়ে গেল । এটাই আবার কালও হল। এই এগিয়ে যাওয়া আকবর পরবর্তী মোগল সম্রাটদের না-পসন্দ ছিল। যুবরাজ খুদরের বিরাগভাজন হয়ে পড়লেন অজন। সংগঠন থেকে শিখজাতিকে এবার সংঘর্ষের সংকটের অভিমূখে যাত্রা করতে হল। স্বয়ং গুরু অর্জনকেই ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে দিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর অকথ্য অত্যাচারের পর ( ১৬০৬ ) । সপ্তদশ শতকের সূচনা শিখদের পক্ষে শাস্তির বাণী বহন করে অনিল