পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


( iii ) না। যদিও অজন-তনয় হরগোবিন্দ অবশু তার খেলোয়াড়ি মনোভাব আর মধুর ব্যক্তিত্ব দিয়ে জাহাঙ্গীরের প্রশংসা অর্জন করে নিলেন, তবুও তাকে আটক করে গোয়ালিয়ারে নির্বাসিত করলেন সম্রাট। এর পর থেকে নির্বাসন, হত্যা, বেআইনী শোষণ, নারকীয় অত্যাচারের অভিজ্ঞতা শিখ জাতির পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারণ করতে লাগল। গুরু গোবিন্দ সিংহের পদতলে বসে থাকতেনযে ধামিক বৃদ্ধটি, সেই মান সিংহ হলেন শহীদ । একই ভাগ্য ছিল পচিশ বছরের তরতাজা যুবক তারু সিংহেরও। বালক হকীকৎ রাইকেও সেই পথেরই অনুগামী হতে হল। উদাহরণ বাড়িয়ে লাভ নেই । কিন্তু এর ফলেই ষষ্ঠ গুরু অজন-তনয় হরগোবিন্দকে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হল। পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তিনি কৃতসংকল্প হলেন । আর প্রতিজ্ঞ করলেন শিখজাতিকে অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি দিতে। এজন্য তিন তিনার তাকে মোগলবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হল। যুদ্ধে একাধিকবার জয়লাভ করলেও শেষ অবধি কিরাতপুরের পার্বত্য অঞ্চলে তাকে আত্মগোপন করে থাকতে হয়। এখানেই তার মৃত্যু হল। প্রকৃতপক্ষে হরগোবিন্দই ছিলেন প্রথম শিখগুরু যাকে সামরিক জীবন যাপন করতে হয়েছিল । হরগোবিন্দের পৌত্র হর রাই এবং তার পুত্র হরকিষাণ তেমন উল্লেখযোগ্য ছিলেন না। ১৬৬৪ খ্ৰীষ্টাব্দে হরকিষাণের মৃত্যুর পর গুরু হরগোবিন্দের দ্বিতীয় বা কনিষ্ঠ পুত্র শিখ সম্প্রদায়ের নবম গুরু তেগ বাহাদুর বাকৃলার ২২ জন সোধির গুরুত্বের দাবী নস্তাৎ করে মাখমচাঁদের সাহায্যে গুরুপদে আসীন হন । কিন্তু তার না ছিল সামরিক বুদ্ধি না ছিল সাংগঠনিক শক্তি ৷ তীর্থ ও প্রচারে তার দিন কাটে। কিন্তু তবুও মোগল সম্রাটের বোধবহ্নি থেকে তিনি দূরে থাকতে পারে নি। তাকে ধরে ঔরঙ্গজীবের কাছে নিয়ে আসা হলে সম্রাট তাকে হয় মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করতে না হয় অলৌকিক কিছু দেখাতে বলেন । তেগ বাহাদুর অস্বীকার করেন। অতএব নিদারুণ অত্যাচার সহ করার পর তাকে মৃত্যু বরণ করতে হয়। তবে তার আত্মোৎসর্গ শিখদের মধ্যে প্রতিরোধ গ্রহণের সংকল্প গড়ে তোলে। তেগ বাহাদুরের একমাত্র পুত্র, দশম তথা অস্তিম শিখগুরু গুরু গোবিন্দ সিংহের সময় থেকেই গুরুদের প্রাধান্ত হ্রাস, প্ৰতিনামা সম্প্রদায়সমূহের উদ্ভব এবং ঔরংজীবের ধর্মনীতি শিখজাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবল সংকটের স্বাক্ট করে । গুরু গোবিন্দকে তিনটি প্রত্যক্ষ বিষয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হতে হল! পিতৃহত্যার প্রতিশোধ, ইসলামধর্মে দীক্ষাদানের প্রবণতারোধ এবং সামরিক ছত্রছায়ায় শিখদের সংগঠন— তিনটি লক্ষ্য পূরণে তিনি ব্যাপৃত হন। ফলে খালসার’ ( পবিত্র ) উদ্ভব ঘটে । তরবারিই তার কাছে ঐশী শক্তির সমতুল হয়ে পড়ে। ১৬১১ খ্ৰীষ্টাবে কেশগড়ের সম্মেলনে তিনি তার জন্য জীবনদানে প্রস্তুত—এমন ‘পঞ্চ পিয়ার"কে নিয়ে শিখধর্মের