পাতা:শিখ-ইতিহাস.djvu/৩৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


49 е е শিখ-ইতিহাস কর্তৃপক্ষীয়গণ জানিতে পারিলেন যে, শাসন-যন্ত্ৰ খণ্ড খণ্ড বিচ্ছিন্ন হইবে –সর্বত্রই লুণ্ঠনকারীর দল স্বষ্টি হইবে ; এবং সাধারণতঃ সমাজের প্রতি স্থলভ্য জাতির ইতিকর্তব্যতা এবং স্ব স্ব অধীনস্থ প্রজাবর্গের প্রতি শাসনকারী রাজশক্তির কর্তব্য কার্যে সকলেই সংঘর্ষ উৎপাদনের জন্য সমবেত হইবে। এইরূপে সীমান্ত দুর্গগুলি স্বরক্ষিত ও দৃঢ়ীকরণের উদ্বেপ্তে এবং পূর্ব-আক্রমণে বাধা প্রদানের উপযোগী সৈন্য সতত স্থসজ্জিত রাখিবার জন্য, যথানিয়মে সকল উপায়ই অবলম্বিত হইল। যে পরিমাণ সৈন্য অন্ততঃ সমরূপ প্রতিফল প্রদান করিতে পারে, অথবা ইংরাজ নামের প্রাধান্য প্রমাণ করিতে সমর্থ হয়, তদুপযোগী সৈন্যও আহরিত হইল ॥১ ইহাই ব্রিটিশ গবর্ণমেণ্টের সৎ ও নিয়মিত উদেগু । কিন্তু শিখগণ, উভয় রাজ্যের আপেক্ষিক অবস্থায় স্বতন্ত্র মত গ্রহণ করিল ; তাহারা সন্নিহিত বিশালশক্তিসম্পন্ন প্রতিবেশীদিগের অযথা উচ্চাকাঙ্খায় ভীত হইল । যখন আভ্যন্তরীণ গৃহবিবাদে তাঁহাদের আপেক্ষিক নিকৃষ্টতার আরও নীচ পরিচয় পাওয়া গিয়াছে, তখন কেন অপরে তাহাদিগের ভয়ে ভীত হইবে, সে বিষয় তাহারা বুঝিতে পারিল না। তাঁহাদের নিকট বাধা প্রদানের উপায় অবলম্বন, প্রথম আক্রমণের আয়োজন বলিয়া উপলব্ধি হইল। তখন শিখগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইল যে, অতি শীঘ্রই তাহাদের দেশ আক্রান্ত হইবে । দুর্বল এবং স্বল্পবুদ্ধি শক্তিপুঞ্জের এইরূপ দৃঢ় বিশ্বাসও অযৌক্তিক বলিয়া প্রতীয়মান হয় নাই ;- কারণ, মনে রাখা উচিত যে, সভ্যতায় ভারতবর্ষ ইউরোপের সমকক্ষ নহে ; পরন্তু ভারতবর্ষ তখনও পাশ্চাত্য সভ্যতার উজ্জল আলোকরশ্মি প্রাপ্ত হয় নাই ;–ভারতবর্ষ তখনও অসভ্যতার ঘোর অন্ধকারে নিমগ্ন ছিল। মধ্যযুগে খ্ৰীষ্টীয় রাজ্যে রাজনৈতিক সভ্যতা, ধর্ম ও কর্তব্যজ্ঞান যেমন কচিৎ সমাদৃত ও হৃদয়ঙ্গম হইত ; তদ্রুপ বর্তমান সময়ে পূর্বেখণ্ডেও তাহার আদর ছিল না। অধিকন্তু কাবুল হইতে আসামভ্যালি এবং সিংহলদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র হিন্দুস্থান একরাজ্য বলিয়া অভিহিত হইত, এবং এই বিশাল ভূখণ্ডের অন্তর্গত কোন রাজ্যের কথা বলিলেই, সাধারণতঃ লোকের মনে একই রাজা অথবা একই বংশের প্রাধান্যের ভাব স্বতঃই উদয় হইত। ভারতে বিক্রমজিৎ এবং চন্দ্রগুপ্ত, তুর্কমান ও মোগল প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন রাজগণ ও বংশপরম্পরার প্রাধান্ত ও রাজত্ব-বিষয়ক বিবরণ সকলেরই বিশেষ পরিচিত। এক্ষণে ইংরাজগণ কর্তৃক পুনরায় রাজ্য বিজয়ের বা অধিকারের কথা শ্রবণ করিয়া, কি হিন্দু, কি মুসলমান, সকলেই মনে করিবেন যে, ইংরাজ জাতির ভাগ্যবল অতি মহৎ, এবং তাঁহাদের অশ্বশস্থাদি দুৰ্নিবার ও অনিবার্ধ। কোন কোন রাজা হয়তে ক্ষোত ব-দুঃখ প্রকাশ করিতে পারেন যে, তাহার রাজ্য অপহৃত হইতেছে এবং তিনি করদ ফুরি মধ্যে পরিগণিত হইতেছেন ; কিন্তু জন-সাধারণে কখনও বিজেতৃবৃন্দকে অস্কায় > Compare Minute by the Governor-General, of the 16th June, 1845, and the Governor General to the Secret Committee, 1st October, 1845, (Parliathesitary paper, 1846, ) -