পাতা:শোধবোধ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্রথম অঙ্ক

শােধ-বােধ

দ্বিতীয় দৃশ্য

লাউঞ্জ সুটে একশো টাকার কাছাকাছি লাগবে। একটা চলনসই ইভনিং ড্রেস দেডশো টাকার কমে কিছুতেই হবে না।

 বিধু। বলো কি সতীশ। এ তো আড়াইশো টাকার ধাক্কা, এত টাকা—

 সতীশ। মা, ঐ তোমাদের দোষ। এক ফকিরি ক’র্‌তে চাও, সে ভালো, আর যদি ভদ্র সমাজে মিশতে হয় তো খবচ ক’র্‌তে হবে। সুন্দরবনে পাঠিয়ে দাও না কেন, সেখানে বনের বাঁদররা ড্রেস কোট পরে না।— কিন্তু মা, সেই গুড়গুড়ি। একটা প্ল্যান ভেবেছি, তুমি বাবাকে বলো যে, কাল রাত্রে তোমার লোহার সিন্দুকের চাবি চুরি গেছে।

 বিধু। দেখ সতীশ, এ দিকে তোর বাবার বিষয়বুদ্ধি একটুও নেই— কিন্তু ওঁকে ফাঁকি দেওয়া শক্ত। ধরা পড়ে’ যাবি।

 সতীশ। ধরা তো এক সময়ে প’ড়্‌বোই। আপাতত কোনো রকম করে’—তা ছাড়া কাল তো উনি কলম্বোয় যাচ্চেন, ইতিমধ্যে যা হয় একটা উপায় করা যাবে। যথেষ্ট সময় পেলে নেকলেসটা চাই কি ফিরিয়েও নিতে পারি। অনেক ভেবে দেখলুম শেষকালে—ঐ যে বাবা আস্‌চেন। মা, এখনি, আর দেরি কোরো না।

সতীশের প্রস্থান।

শশধর ও মন্মথের প্রবেশ

 বিধু। ওগো শুন্‌চো, সর্ব্বনাশ হ’য়েচে। কাল রাত্রে লোহার সিন্দুকের চাবি চুরি গেছে।

 শশধর। সে কি কথা বউ। কোথায় চাবি রেখেছিলে, কে ক’র্‌লে এমন কাজ?

[ ২৭