পাতা:শ্রীশ্রীচণ্ডী-মহেন্দ্র নাথ মিত্র.djvu/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাহাত্ম্য | Ꮌ©☾ বিকাশের সহিত, সত্ব ও রজ-শক্তির মূৰ্ত্তি হয়। কিন্তু তাহার প্রথমে তম শক্তির দ্বারা অভিভূত থাকে। চঞ্জীর এই স্মৃষ্টি উপাখ্যানে দেখিতে পাই যে, প্রলয়ের পর কৃষ্টি-কার্যা প্রথম আরম্ভ হইয়াছিল,—তখন সত্ব-শক্তির অধিষ্ঠাতা বিষ্ণু-নিদ্ৰিত ; আর রজ-শক্তির আশ্রয় ব্ৰহ্মা—নিক্রিয়। বিষ্ণুর কর্ণ-মলার সহিত শ্রবণ ইঞ্জিয়-গ্রাহ শব্দ-তন্মাত্রের ও আকাশ-ভূতের যে সম্বন্ধ আছে, তাহা হইতে এস্থলে ‘মধুকৈটভ কাহাকে উপলক্ষিত হইয়াছে—তাহ অনুমান করা যায়। সৃষ্টির প্রথমে জড়-শব্দ-তন্মাত্র ও তাঁহার আধার আকাশ-ভূতাদির সৃষ্টি হইয়াছিল। কিন্তু তখন সেই তামস্ প্রকৃতির উদাম-ক্রিয়া হইতে জড় ব্ৰহ্মাণ্ড সৃষ্ট ও বৰ্দ্ধিত হইলেও, তাহা তখনও জৈব-সৃষ্টির উপযুক্ত হয় নাই ; কেন না, তখনও নারায়ণ বিষ্ণু তম-প্রভাব ব৷ যোগ-নিদ্রা ত্যাগ করিয়া, স্বষ্টি পালনে নিরত হন নাই। তাহার পর, তম-শক্তি নিয়মিত হইয়া রজ ক্রিয়ার আরম্ভ হইলে, সেই রজ শক্তির ক্ষোভ-হেতু ক্রমে সত্ব-শক্তির বিকাশ হইল—অর্থাৎ তখন নারায়ণ জাগরিত হইলেন। এবং সত্বশক্তির রণত্বে তম শক্তি অভিভূত হইল—নিয়মিত হইল— তামস্ ক্রিয় সংঘত হইল ; ক্রমে ব্ৰহ্মাণ্ড জীব-বাসোপযোগী হইল। ইহাই রূপকে বিষ্ণুর জাগরণ ও বিষ্ণু কর্তৃক মধুকৈটভবধ বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে বোধ হয়। যাহা হউক এস্থলে রূপক ভেদ করিয়া মূল অর্থ ও কুট দুঞ্জে দার্শনিক তত্ত্ব গ্রহণের চেষ্টা করিবার বিশেষ প্রয়োজন নাই। আমার এক্ষণে চণ্ঠীর দ্বিতীয় উপাখ্যান কি—তাহাই বুঝিতে চেষ্টা করিব।