পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/২১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অসুস্থ হীরামকৃষ্ণ ও ডাক্তার রাখাল—ভক্তসঙ্গে নৃত্য 'S একজন ভক্ত—আপনি যদি মাকে বলেন মা এই রোগটা সারিয়ে দাও, তা হলে শীঘ্র সেরে যায়। উীরামকৃষ্ণ—রোগ সারাবার কথা বলতে পারি না ; আবার ইদানীং সেব্যসেবক ভাব কম পড়ে যাচ্ছে । একবার বলি ‘ম, তরবারির খাপট একটু মেরামত করে দাও ; কিন্তু ওরূপ প্রার্থনা কম পড়ে যাচ্ছে ; আজকাল ‘আমিটা খুজে পাচ্ছি না। দেখছি তিনিই এই খোলাটার ভিতরে রয়েছেন । কীৰ্ত্তনের জন্য গোস্বামীকে আনা হইয়াছে। একজন ভক্ত জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘কীৰ্ত্তন কি হবে ? শ্রীরামকৃষ্ণ অসুস্থ, কীৰ্ত্তন হইলে মত্তত আসিবে ঃ এই ভয় সকলে করিতেছেন। ত্রীরামকৃষ্ণ বলিতেছেন, “হোক একটু। আমার নাকি ভাব হয়, তাই ভয় হয় । ভাব হলে গলায় ঐ খানটা গিয়ে লাগে।” কীৰ্ত্তন শুনিতে শুনিতে ঠাকুর ভাব সম্বরণ করিতে পারিলেন না ; দাড়াইয়া পড়িলেন ও ভক্ত সঙ্গে নৃত্য করিতে লাগিলেন। ডাক্তার রাখাল সমস্ত দেখিলেন ; তাহার ভাড়াটিয়া গাড়ী দাড়াইয়া আছে ; তিনি ও মাষ্টার গাত্রোথান করিলেন, কলিকাতায় ফিরিয়া যাইবেন । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে উভয়ে প্রণাম করিলেন । ত্রীরামকৃষ্ণ (সস্নেহে মাষ্টারের প্রতি )—তুমি কি খেয়েছ ? [ মাষ্টারের প্রতি আত্মজ্ঞানের উপদেশ—‘দেহটা খোলামাত্র’ ] বৃহস্পতিবার ২৪শে সেপ্টেম্বর পূর্ণিমার দিন রাত্রে শ্রীরামকৃষ্ণ র্তাহার ঘরে ছোট খাটটির উপর বসিয়া আছেন। গলার অমুথের জন্য কাতর হইয়াছেন । মাষ্টার প্রভৃতি ভক্তের মেজেতে বসিয়া আছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ ( মাষ্টারের প্রতি )—এক একবার ভাবি, দেহটা খোল মাত্র ; সেই অখণ্ড (সচ্চিদানন্দ) বই আর কিছু নাই। O “ভাবাবেশ হলে গলার অসুখটা একপাশে পড়ে থাকে। এখন ঐ ভবিট। একটু একটু হচ্ছে, আর হাসি পাচ্ছে।”