পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/২৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃতীয় পরিচ্ছেদ শ্রীরামকৃষ্ণ ( বঙ্কিমের প্রতি –কামিনী কাঞ্চনই সংসার। এরই নাম মায়। ঈশ্বরকে দেখতে, চিস্তা করতে দেয় না ; দু একটি ছেলে হ’লে স্ত্রীর সঙ্গে তাই ভগ্নীর মত থাকতে হয়, আর তার সঙ্গে সৰ্ব্বদা ঈশ্বরের কথা কইতে হয় } ত হ’লে দুজনেরই মন তার দিকে যাবে আর স্ত্রী ধৰ্ম্মের সহায় হবে। পশু ভাব না গেলে ঈশ্বরের আনন্দ আস্বাদন করতে পারে না । ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হয় যাতে পশুভাব যায়। ব্যাকুল হয়ে প্রার্থন। তিনি অন্তৰ্য্যামী শুনবেনই শুনবেন। যদি আন্তরিক হয়। “আর—‘কাঞ্চন’। আমি পঞ্চবটীর * তলায় গঙ্গার ধারে বসে ‘টাকা মাটী’ টাকা মাটী’ ‘মাটাই টাকা, টাকাই মাটী’ বলে জলে ফেলে দিছ লুম! বঙ্কিম—টীকা মাটী ! মহাশয় চারটা পয়সা থাকলে গরীবকে দেওয়া যায়। টাক। যদি মাটী, তা হলে দয়া পরোপকার করা হবে না ? [ শ্ৰীযুক্ত বঙ্কিম "জগতের উপকার’ ও কৰ্ম্মযোগ ] শ্রীরামকৃষ্ণ ( বঙ্কিমের প্রতি )—দয়া ! পরোপকার ! তোমার সাধ্য কি যে তুমি পরোপকার করো ? মামুষের এতো নপর চপর, কিন্তু যখন ঘুমোয়, তখন যদি কেউ দাড়িয়ে মুখে মুতে দেয়, তো টের পায় না, মুখ ভেসে যায়। তখন অহঙ্কার, অভিমান, দর্প কোথায় যায় ? “সন্ন্যাসীর কামিনী-কাঞ্চন ত্যাগ করতে হয় ! তা আর গ্রহণ করতে পারে না। থুথু ফেলে থুথু আবার খেতে নাই। সন্ন্যাসী যদি কারুকে কিছু দেয়, সে নিজে দেয়, মনে করে না। দয়া ঈশ্বরের, মাহুযে আবার কি দয়া করবে ? দানটান সবই রামের ইচ্ছা । ঠিক সন্ন্যাসী মনেও ত্যাগ করে, বাহিরেও ত্যাগ করে। সে গুড় খায় না, তার কাছে গুড় থাকাও ভাল নয়। কাছে গুড় থেকে যদি সে বলে খেয়ো না, তা লোকে শুনবে না।”

  • পঞ্চবটী-রাসমণির কালীবাটীতে পঞ্চবটীতলায় ঠাকুর ত্রীরামকৃষ্ণ অনেক সাধনা তপস্ত। করিয়াছিলেন । অতি নির্জন স্থান সহজেই ঈশ্বর উদ্দীপন হয়।

১৭=৫ম