পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/২৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


는 있 শ্ৰীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত-৫ম ভাগ [ পরিশিষ্ট কথা বিশ্বাস করলে,—বালকের মত বিশ্বাস করলে—ঈশ্বর লাভ হয়। বালকের কি বিশ্বাস। মা বলেছে, ও তোর দাদা হয়, অমনি জেনেছ, ও আমার দাদা। একবারে পাচ সিকা পাচ আনা বিশ্বাস । তা সে ছেলে হয় ত বামুনের ছেলে, আর দাদা হয়ত ছুতোর কামারের ছেলে। মা বলেছে, ও ঘরে জুজু। তো পাকা জেনে আছে, ও ঘরে জুজু। এই বালকের বিশ্বাস ; গুরুবাক্যে এমন বিশ্বাস চাই। স্তয়না বুদ্ধি, পাটোয়ারী বুদ্ধি, বিচার বুদ্ধি করলে, ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না। বিশ্বাস আর সরল হওয়া ; কপট হ’লে হবে না। সরলের কাছে তিনি খুব সহজ। কপট থেকে তিনি অনেক দূর।” “কিন্তু বালক যেমন মাকে না দেখলে দিশেহারা হয়, সন্দেশ মিঠাই হাতে দিয়ে ভোলাতে যাও কিছুই চায় না, কিছুতেই ভোলে না, আর বলে, 'না' আমি মা’র কাছে যাব’, সেইরকম ঈশ্বরের জন্ত ব্যাকুলত চাই। আহা ! কি অবস্থা ! বালক যেমন মা মা ক’রে পাগল হয়। কিছুতেই ভোলে না! যার ংসারে এ সব ‘মুখ’ ভোগ আলুনি লাগে, যার আর কিছু ভাল লাগে না— টাকা, মান, দেহের মুখ, ইঞ্জিয়ের মুখ যার কিছুই ভাল লাগে না, সেই আন্তরিক মা মা করে কাতর হয়। তারই জন্তে মা’র আবার সব কাজ ফেলে দৌড়ে আসতে হয়।” “এই ব্যাকুলত। যে পথেই যাও, হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, শাক্ত, ব্ৰহ্মজ্ঞানী —যে পথেই যাও, ঐ ব্যাকুলত নিয়েই কথা। তিনি তো অন্তৰ্য্যামী, ভুলপথে গিয়ে পড়লেও দোষ নাই—যদি ব্যাকুলত থাকে। তিনিই আবার ভালপথে তুলে লন।” 疇 “আর সব পথেই ভুল আছে,—সবাই মনে করে আমার ঘড়ি ঠিক যাচ্ছে, কিন্তু কারও ঘড়ি ঠিক যায় না। তা ব’লে কারু কায আটকায় না। ব্যাকুলত থাকলে সাধুসঙ্গ জুটে যায় সাধুসঙ্গে নিজের ঘড়ি অনেকটা ঠিক ক’রে লওয়া যায় ।”