পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীশ্ৰীহরিলীলামৃত । ন যে দ্রব্য চাহিবেন । দিব। রাত্রি কাছে থাকি সকলে দিবেন। এইরূপে সবে থাক গোসাই সেবায় । রাত্রিকালে চারিজম সৰ্ব্বক্ষণ রয় ॥ চিন্তামণি সরস্বতী তারক সাধনা ৷ দিবা রাত্রি সঞ্চা কাল রহে চারিজন ॥ কেহ আসে কেহ যায় কেহ উঠে বসে। কেহ নিদ্রাবশীভুত চক্ষের নিমিষে ॥. বারশছিয়াশী সাল উনত্ৰিশে বৈশাখ । সকলেকে বলে তোর হরিবলে ডাক ॥ প্রভু বলে মোরে যদি ভালই বাসিস্ । আজ তোরা মোর কাছে কেহ না আসিস্ ॥ বৈকাল বেলায় দেড় প্রহর থাকিতে । সকলেকে তুষিলেন সুমিষ্ট বাক্যেতে ॥ আমার এ ঘর ছাড়ি অন্তস্থানে যাও । দুরে নহে নিকটে নিকটে সবে রও ৷ তাহা শুনি চারিজন রহে স্থানান্তরে । তাহার নিকটে রহে গোস্বামী যে ঘরে ॥ দক্ষিণুের ঘর পরিষ্কার পরিপাটী ৷ পশ্চিম দক্ষিণ দিকে বেড়া আট। আটি ॥ নূতন নিৰ্মাণ ঘর দেখতে সুন্দর । গোসাই দেখিয়া বলে এ ঘর আমার ॥ তোমার যে বড় বর ও ঘরে না যা’ব । এই ধরে থেকে আমি ঠাকুর দেখিব । সেই ঘরে গোস্বামীর শয্যা করে দিয়া । উত্তরের বেড়। দিল চাটাই ঘেরিয়। ॥ এগার তারিখে জয়পুর আসিলা । সেই দিন রহিলেন আম্রবৃক্ষ তল । বারই বৈশাখ দিনে সে ঘরে প্রবেশে । সুশ্রুষা করেণ সবে মনের হরিষে ॥ - বেদন যখনে উঠে হয়েন অস্থির । দুঃখেতে সবার চক্ষে ঝরে অশ্রুনীর ॥ পাগল বলিল সবে ঘর হতে যাও। যদি মোরে ভালবাস মোর কথা লও। ঘরের বাহিরে গেল যত নর নারী। গুণ গুণ রবে সবে বলে হরি হরি ॥ কেহ বা নিকটে যায় গোস্বামী দেখিতে । হস্ত তুলে মানা করে নিকটে যাইতে ॥ উত্তরের বেড়ে বেড়া ঠেলিয়। চাটাই। হারবলে ভূমিতলে পড়িল গোসাই । সীতানাথ তাহ দেখি ডাক দিয়া কয়। পাগল ঢলিয়। পল এস কে কোথায় ॥ অমনি তারক গিয়া দোঁড়িয়া ধরিল। জ্ঞানশূন্ত অচৈতন্য কোলেতে করিল ॥ সাত্বনা করিব বলি ধরিল যতনে। অস্তি ধীরে কোলে করি আনিল প্রাঙ্গণে ॥ সীতানাথের জননী বলিল তখনে। অচেতন পাগল দেখ না তুমি কেনে ॥ পাগলেরে হরিনাম করাও শ্রবণ। এবার গোসাই বুঝি ত্যজিল জীবন। যার যা উচিত তাহ করহ এখন । উচ্চৈঃস্বরে হরিনাম কর সর্বজন ॥ হেন কালে গোস্বামী দিলেন অঙ্গবাকি। . হস্ত পদ লোম কেশ উঠিল চমকি ॥ গোস্বামীর মুখ হ’তে উঠে এক জ্যোতি । চিকমিক ঠিক যেন বিদ্যুতের ভাতি ॥ তারকের মুখে বুকে লাগিল সে জ্যোতি । আর শূন্যে উঠে মহানন্দ দেহে স্থিতি ॥ গোপাল নামেতে একজন লোক আসি । কাষ্ঠ করে হৃষ্ট মনে হ’ল রাশী রাশী ॥ তাহা দেখে সাধনা সে বলিল অভীষ্ট । কি কারণে তোমরা করেছ এত কাষ্ঠ ॥ গোস্বামীর অগ্নিকুণ্ঠ করা বড় দায়। একাৰ্য্য করিতে মম মনে লাগে ভয় ॥ বেদনায় গোস্বামীর জলে গেছে দেহ । একরূপ গোস্বামীর তাতে হ’ল দাহ । লয়েছে অগ্নির শেক ব্যথায় অস্থির। তাতে আর এক দাহ হ’য়েছে শরীর ॥ ঠাকুরের লীলা সাঙ্গ হ’ল যে অবধি । সে দারুণ আগুণে পুড়েছে নিরবধি ॥ পোড়া দেহ পুন কেন করিব। দাহন। নব গঙ্গা জলে দেহ দেহ বিসর্জন ॥ গঙ্গার কামনা পূর্ণ গোস্বামীর আশ । গঙ্গার শীতল উভয়ের ভালবাসা ॥ মনেবলে এর যদি কর বিপৰ্য্যয় । তোমার বিপদ হ’বে জানিও নিশ্চয় ॥ কেহ বলে পরোয়ান এসেছে থানায় । জলে কদাচার কিছু করা নাহি যায় ॥ জলেতে প্রস্রাব কেহ করিবারে নারে । মলত্যাগ করিলে চালান দেয় ধরে ।